রূপে গুণে লক্ষ্মী সরস্বতী! অপূর্ব সুন্দর বিহঙ্গ কথা

12

 

মহানগর ডেস্ক: গুণবতী সুন্দরী রমণী কে বলা হয় এমন কথা। কিন্তু পাখিদের এমন সুন্দর উপমা শুনেছেন কখনও? দেখতে যেমন সুন্দর তেমন গুণ।

এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন। চলুন সবাইকে ই দেখি। সুন্দর মানুষ যেমন বেশি সাজলে আরও সুন্দর লাগে ঠিক তেমনি “অধিকন্তু না দোষায়”। যে মানুষ ফুল, পাখি গান, শিশু ভালোবাসেন না তাকে তো সুস্থ বলা ও হয় না, এগুলো সবাই ভালোবাসেন। মানুষ তো সৌন্দর্যের পুজারী। তাই পাখি র সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলেছে। পাখি অনেক রকমের হয়, পোষ্য থেকে পরিযায়ী পাখির প্রজাতি ও অনেক। অনেক পাখি আছে যাদের আওয়াজ একটু বেরসিক। আবার অনেক পাখির কলকাকলিতে ভোর হয়, সূর্যের আভায় মুখরিত হয় বসুন্ধরা। কী মধুর সে সঙ্গীত! বলে বোঝানো যায় না, কেবল হৃদয়ের সেতার গুলোতে টুংটাং করে ঝঙ্কার তুলে যায়।

যখন দূর থেকে কোনো পাখির গান তরঙ্গায়িত হয়ে কানে আসে তখনই তো ঘুম ভাঙে, তার মিষ্টি সুরে গান শুনে। বেশিরভাগ পাখি সামাজিক। এরা শিষ দিয়ে কিংবা ওদের ভাষায় শব্দ করে একে অপরের সাথে ভাব বিনিময় করে। সকালে বিকালে জোট বেঁধে ঘুরতে থাকে কিংবা দূরে কোথাও বেড়াতে যায়, খাদ্যের সন্ধান করে, আবার সাঁঝের বেলায় কুলায় ফিরে আসে। পাখির প্রজাতিকে বাণিজ্যিক ভাবেও প্রতিপালন করা হয়। পৃথিবীতে এমন অনেক রকমের পাখি আছে যাদের জমকালো রং, দৈহিক গঠন, সুরেলা কণ্ঠ, এরূপ অসাধারণ কিছু গুণের জন্য তারা বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পাখির খ্যতি অর্জন করেছে। এমন ৫ টি পাখির কথা আজ জানবো-

স্কারলেট ম্যাকাও- ঊজ্জ্বল লাল, নীল ও হলুদের সমাহারে মোহিনী স্কারলেট ম্যাকাও সকলেকে মুগ্ধ করে। এটি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার চিরস্থায়ী আদ্র অঞ্চলে বাস করে। ম্যাকাও প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তম ও সুন্দরতম সদস্য এটি। এর শক্ত বাঁকা ঠোঁট এবং, দীর্ঘক্ষণ ধরে উড়তে পারার ক্ষমতাই এদের পরিচয়ে আলাদা মাত্রা এনে দেয়। এদের আয়ু ৪০-৪৫ বছর। এরা হুবহু মানুষের গলা নকল করতে পারে। কোইয়া দ্বীপে এদের বাস দেখা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব মেক্সিকো থেকে আমাজনীয় পেরু অঞ্চলে ও বলিভিয়ায় এই পাখি দেখা যায়। হন্ডুরাস এই স্কারলেট ম্যাকাও কে জাতীয় পাখি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এবার আসছি ময়ূরের কথায়। ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূর কে না জানে? এমনি এমনি তো আর জাতীয় পাখির মুকুট মাথায় পরেনি! এর অনেক গুণ রয়েছে। ময়ূরী কে বর্ষা রাণী ও বলা হয়। বৃষ্টি পড়লেই পেখম তুলে কী অপূর্ব নৃত্যই না করে! গর্বে মন ভরে ওঠে যে আমাদের জাতীয় পাখি ময়ূর।বর্ষাকালে এদের প্রজনন হয়। ময়ূরী কে আকর্ষণ করার জন্য ময়ূর পেখম মেলে ধরে, এবং এই সময় বিশেষ দুর্বলতা সৃষ্টি হয়, যে ময়ূর নয়নাভিরাম নৃত্য প্রদর্শন করে ময়ূরীর মন জয় করে সেই হয় ময়ূরীর সঙ্গী। এশিয়ার নীল ও সবুজ ময়ূরের দেখা পাওয়া যায়, কিন্তু জিনগত কারণে সাদা ময়ূরের দেখা ও মেলে। ময়ূর বন্য পাখি, মাটির গর্তে থাকে, ডিম পাড়ে, এরা গাছের ডালে বিশ্রাম নেয়। ফ্যাজিয়ানিডি পরিবারের অন্তর্গত অত্যন্ত মনোগ্রাহী সুন্দর একটি পাখি হলো ময়ূর। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ময়ূরের দেখা মিললেও তাদের সংখ্যা কিন্তু কমতে শুরু করেছে। শত্রুর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এরা ধারালো নখ ব্যবহার করে।

গোল্ডেন ফিজ্যান্ট- এদের মাথায় ক্রেস্টের মতো অসাধারণ গোল্ডেন ফর্ন সহ একটি প্রানবন্ত লালচে কমলা ঘাড় আছে। সঙ্গমের সময় সৌন্দর্য প্রদর্শনে সাহায্য করার জন্য গোল্ডেন ফিজ্যান্টের ঘাড়ের কমলা কেপ বিশেষ আকর্ষণীয়। গ্রীক শব্দ “খরাসোলোফোস” থেকে এসেছে নামটি। পাখিটি ৯০-১৫০ সেমি পর্যন্ত বড়ো। এদের লেজ পাখির আকারের দুই তৃতীয়াংশ। পুরুষ পাখি ১.৪ এবং স্ত্রী পাখির ওজন১.২ কেজির মতো। প্রতি বছর প্রায় ৪০ টি মতো ডিম পাড়ে স্ত্রী পাখিটি।

ফ্লামিংগো- এর কমলা রঙের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে সবাইকে। আন্টার্কটিকার ছাড়া প্রায় সব দেশেই দেখা যায় পাখিটি। ফ্লামিংগো পোর্তুগিজ বা স্পানিশ শব্দ “ফ্লামেঙ্গো” থেকে এসেছে। ঘন্টায় ৫৬ কিলোমিটার উড়তে পারে। সাঁতারে অত্যন্ত পটু এরা এদের ওয়েডিং বার্ড ও বলা হয়। দৈর্ঘ্য ৪-৫ ফুট, ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজি।

ব্লু জে- দুষ্ট স্বভাব ও নীল রঙের আধিক্যের জন্য এদের নাম ব্লু জে। ডাকার সময় জে জে করে ডাকে। পূর্ব ও মধ্য উত্তর আমেরিকার বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়। এরা অন্যান্য পাখিদের স্বর নকল করে মাঝে মাঝে তাদের বিব্রত করে।