‘প্রিয়তমা, পোড়া রুটিই আমার পছন্দ’, এপিজে আব্দুল কালামের মা-কে বলেছিলেন তাঁর বাবা

12
APJ Abdul Kalam
পরিবারের সঙ্গে এক ফ্রেমে এপিজে আব্দুল কালাম।

মহানগর ডেস্ক: মা-বাবার হাত ধরে শিক্ষার প্রাথমিক সোপানে উত্তরণ। এপিজে আব্দুল কালামের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের প্রত্যন্ত এক গ্রামে ১৫ অক্টোবর ১৯৩১ সালে তাঁর জন্ম। দারিদ্রতার সঙ্গে প্রতি মুহুর্তে পাঞ্জা লড়তে হতো পরিবারকে। নিজের আত্মজীবনীতে কোনও কিছুই গোপন করেননি তিনি। শুনিয়েছেন ভারতের ‘রকেট ম্যান’ হয়ে ওঠার আগে নিজের ছেলেবেলার গল্প।

‘উইংস অব ফায়ার’-এ এপিজে আব্দুল কালাম নিবদ্ধ করেছেন ছোটোবেলার কিছু স্মৃতির কথা। উনুনে রান্না চাপানোর আগে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হতো তাঁর বাবা, মাকে। দু’বেলার খাবারও জুটত না রোজ। পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে কাটত দিন-রাত। একদিন রাতে মা অশিয়াম্মা রুটি পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। পোড়া রুটির সঙ্গে একটা তরকারি। দিন শেষে সেটাই তিনি দিয়েছিলেন স্বামী জৈনুলবিদ্দিন মারাকায়ারকে। ছোট্টো আব্দুল তখন তাকিয়ে বাবার দিকে। পোড়া রুটি দেখে এই বুঝি কিছু বলবেন, ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু জৈনুলবিদ্দিন ছিলেন নির্বিকার। স্ত্রীর হাতে বানানো পোড়া রুটি-তরকারি তৃপ্তি করেই খেয়েছিলেন তিনি। রান্না ভাল না হওয়ায় ক্ষমা চেয়েছিলেন আব্দুলের মা। জৈনুলবিদ্দিন তখন বলেছিলেন, ‘প্রিয়তমা, পোড়া রুটিই আমার পছন্দ।’

আব্দুল কালাম শৈশবেই বুঝেছিলেন এক টুকরো রুটির মর্ম। ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও সেই রাতের কথা ভোলেননি ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম। মা, বাবার সঙ্গে কাটানো ছোটো অনেক মুহুর্ত চালিকা শক্তির কাজ করেছিলেন কালামের ব্যক্তি জীবনে।

আব্দুল পরে তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আচ্ছা বাবা, তুমি কি সত্যি পোড়া রুটিটা পছন্দ করেছিলে?’ উত্তর জৈনুলবিদ্দিন ছেলেকে বলেছিলেন, ‘মনে রাখবি মানুষ পোড়া রুটি খেয়ে যত না কষ্ট পায় না, তারথেকেও অনেক বেশি কষ্ট পায় লোকের কাছ থেকে শোনা কটূ-কথায়।’

অনটনের মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন এপিজে আব্দুল কালাম। বেড়ে উঠেছিল পড়াশুনার প্রতি তাঁর ভালবাসা, একাগ্রতা। অভাবের মধ্যেও অশিয়াম্মা এবং জৈনুলবিদ্দিন তাঁদের সন্তানকে প্রতিনিয়ত দেখিয়েছিলেন শিক্ষার আলো। সব সময় থেকেছিলেন ছেলের পাশে।

কালামের স্মৃতি কথায়, ‘আমাদের বাড়িতে তখনও বিদ্যুতের বাতি ছিল না। কেরোসিন তেলের কুপি জ্বালিয়ে পড়াশুনা করতাম। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সেই আলো জ্বলত। মা চেষ্টা করতেন আমি যেন আরও একটু পড়তে পারি। আমার শোয়ার ঘরে বাতি রেখে যেতেন, আমি যাতে রাত ১১টা পর্যন্ত পড়তি পারি।’