মমতার বাংলায় এনআরসি হবেই! জোর গলায় জানালেন লকেট

1025
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: ‘অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে ২০২১’র ভোট বৈতরণী পার হওয়ার মতলব রয়েছে তার। তাই এই রাজ্যে এনআরসি চালু করতে চাইছেন না তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু বলে রাখলাম সে গুড়ে বালি। বাংলায় এনআরসি হবেই।’ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে বিজেপির দুদিন ব্যাপি দলীয় সভায় যোগ দিতে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনআরসি নিয়ে বিরোধীতাকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপি নেত্রী তথা হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চ্যাটার্জী। পাশাপাশি তার দাবি, তৃণমূল নেত্রী যতই রহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারিদের ভোট নিয়ে ফের গদিতে বসার দিবা স্বপ্ন দেখুন না কেন। বিজেপি নেতৃত্ব তা হতে দেবে না। কেননা ইতিমধ্যেই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দেশের কোথাও কোন অনুপ্রবেশকারিকে রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারী দিয়ে রেখেছেন। তাই আগামী দিনেও এই রাজ্যেও এনআরসি চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

বৃহষ্পতিবার সকালে কলকাতা থেকে বালুরঘাটে আসেন লকেট। এদিন ও কাল তিনি দফায় দফায় জেলার ৬টি বিধানসভা ভিত্তিক কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই মত দুপুরে বালুরঘাট শহরের একটি হোটেলের প্রেক্ষাগৃহে তিনি আজকের জন্য নির্দিষ্ট তিনটি বিধানসভার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি উপস্থিত হলে বিজেপির জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি মহিলা বিজেপি কর্মীরা তাকে তিলক পড়িয়ে ও ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন। অপর দিকে বৈঠকে বসার আগে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আরও বলেন, ‘তৃণমূল ২০২১’র ভোট জেতার জন্য রহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারিদের সরকারি ভাবে ভোটার কার্ড বের করে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের থাকবার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে। সবটাই করা হচ্ছে শুধুমাত্র ভোটে জেতার জন্য।’

এদিন কেন্দ্রের জারি করা নয়া মোটরযান আইন নিয়েও মুখ খোলেন লকেট। উল্লেখ্য এই রাজ্যে এই আইন এখনই চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ব্যাপারটি নিয়ে বলতে গিয়ে লকেট বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার জনগনের মুল্যবান জীবনের দাম তাদের পরিবারেরর কাছে সুরক্ষিত রাখতেই এই আইন চালু করেছে। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী সেই সব জীবনকে দাম হিসেবে দেখেন না বলেই তিনি এই রাজ্যে তা চালু করতে নারাজ। এছাড়াও জেএমবি জঙ্গী গোষ্ঠীর নেতাদের বেশ সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই পশ্চিমবংগ। তাই প্রতিদিন তারা অন্য রাজ্য থেকে দুষ্কর্ম করে এখানে এসে অবাধে আশ্রয় নেওয়ার সাহস পাচ্ছে। তৃণমূলের মদতের জন্যই এটা হচ্ছে।’