চলতি বছরেই রাজ্যের বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনে রান্নার গ্যাস সরবরাহ শুরু হচ্ছে, জানাল নবান্ন

12
nabanna gas news

Highlights

  • চলতি বছর থেকেই রাজ্যে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা শুরু হবে
  • আমলা তান্ত্রিক লালফিতের ফাঁসে এতদিন আটকে ছিল প্রকল্পটি
  • রাজ্যে গ্যাস সরবরাহের জন্য চারশো কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে

 

মহানগর ওয়েবডেস্ক: চলতি বছর থেকেই রাজ্যে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা শুরু হবে। জাতীয় পরিবেশ আদালতে হলফনামা দিয়ে নবান্নের তরফে একথা জানানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পরিবেশ বান্ধব প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্যাস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড -গেইল এবং গ্রেটার কলকাতা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশন এর যৌথ এই প্রকল্পে কলকাতা হাওড়া হুগলি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমলা তান্ত্রিক লালফিতের ফাঁসে এতদিন আটকে ছিল প্রকল্পটি। সম্প্রতি তার জট খোলার ইঙ্গিত মিলেছে।
পরিবেশ আদালতে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি গেলের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। এ বছরের মাঝামাঝি কলকাতা ও হাওড়ায় সিএনজি সরবরাহ করতে পারা যাবে বলে গেলের তরফ থেকে রাজ্যকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক দশমিক পাঁচ থেকে এক দশমিক আট কোটি কিউবিক মিটার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। এই হার প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। গেইলও ইতিমধ্যে রাজ্যে গ্যাস সরবরাহের জন্য চারশো কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে। এই পাইপ লাইনটি বিহারের গয়া থেকে রাজ্যের বর্ধমান জেলার দূর্গাপুর পর্যন্ত যাবে। এই প্রকল্পটিতে রাজ্যের দু’হাজার সাতশো কোটি টাকা খরচ হবে। GAIL-এর সঙ্গে রাজ্য সরকারের গ্রেটার কলকাতা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশান যৌথ উদ্যোগে কলকাতা ও সন্নিহিত এলাকায় গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পে GAIL-এর ৭৪ শতাংশ ও গ্রেটার কলকাতার ২৬ শতাংশ শেয়ার থাকছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে রাজ্যের শহরাঞ্চলে ও পরে গ্রামীণ এলাকায় চালু করা হবে এই পরিষেবা। প্রথম পর্যায় কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলী এই ৫টি জেলায় গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই গ্যাস বাড়ির রান্নার কাজে এবং ছোটো শিল্পে ব্যবহার করা হবে। যেই শিল্পে কয়লা ব্যবহৃত হয় সেখানে এই গ্যাস ব্যবহার করা হবে। GAIL-এর তরফে প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পে ৩০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যানবাহন জনিত দূষণ কমাতে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ চালিত বাস চালু হয়েছে কলকাতায়। কলকাতায় বর্তমানে রাজ্য পরিবহণ সংস্থার আওতায় ৮০টি ইলেকট্রিক বাস চলছে। আরও ১৫০টি বিদ্যুৎ চালিত বাস চালু করতে উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য। ওই বাসগুলি নিউ টাউনের পাশাপাশি আসানসোল, দুর্গাপুর, হলদিয়ায় চলবে। ইলেকট্রিক বাস চালুর আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে সিএনজি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এ বার সেই জটিলতা কেটেছে বলেই নবান্ন সূত্রের খবর। সিএনজি-তে দূষণমাত্রা সামান্যই বলা চলে।

সিএনজি সরবরাহ চালু হলে প্রাথমিক ভাবে ২০টি বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে পরিবহণ দপ্তরের। তার পর ধাপে ধাপে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু একটি জায়গায় সিএনজি পাম্প রাখলে হবে না। শহরের আরও কয়েকটি জায়গায় পাম্প চালু করতে হবে। এক দশক আগে কলকাতায় এলপিজি-চালিত অটোরিকশা বাধ্যতামূলক করা হয়। পুরোনো অটোরিকশাকে এলপিজি চালিত যানে রূপান্তরের জন্য সরকার লক্ষাধিক টাকা ভর্তুকিও দেয়। বেসরকারি বাসের মালিক ও অন্যান্য গাড়ির মালিকদের সিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সরকার কোনও আর্থিক সহায়তার পথে হাঁটবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কলকাতার বায়ু দূষণের মামলায় জাতীয় পরিবেশ জানা গিয়েছে, এর আগে জগদীশপুর থেকে হলদিয়া পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে সিএনজি আনার পরিকল্পনা হয়েছিল। তবে এত দূর পাইপলাইন আনাও যথেষ্ট কঠিন ছিল। বিকল্প সবুজ জ্বালানি হিসাবে আসানসোল-দুর্গাপুর থেকে ট্যাঙ্কারে করে কোল বেসড মিথেন বা সিবিডি আনার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই প্রকল্পও মাঝপথে থমকে যায়।