Home Featured East Burdwan: ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মানে ভূষিত পূ: বর্ধমানের দুই শিক্ষক, ভার্চুয়াল সভায় মুখ্যমন্ত্রীর আদেশে স্মারক তুলে দেবেন জেলাশাসক

East Burdwan: ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মানে ভূষিত পূ: বর্ধমানের দুই শিক্ষক, ভার্চুয়াল সভায় মুখ্যমন্ত্রীর আদেশে স্মারক তুলে দেবেন জেলাশাসক

by Arpita Sardar

মহানগর ডেস্ক: আজ শিক্ষক দিবস। সেই দিনই ভার্চুয়ালি সভা করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় থেকে জেলা শাসকের কার্যালয়ে পূর্ব বর্ধমানের এক হাইমাদ্রাসা ও এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক মহম্মদ উজির আলি ও পলাশ চৌধুরীকে ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কারের সম্মানিত করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

সূত্রের খবর, তাঁরা একেবারে ডক্টর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের আদলেই শিক্ষকতাকে শুধুমাত্র পেশা হিসাবেই ভেবে নেননি। বরং স্কুলের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি ঘটাতে এবং পড়ুয়াদের সুশিক্ষিত করে তুলতে দিন রাত এক করে খেটে গেছেন বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকার বাসিন্দা পলাশ চৌধুরী। যার শিক্ষক জীবনে প্রবেশ ২০০০ সালে। কিন্তু সরকারি মতে ২০১৪ সালে বর্ধমানের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কোভিড অতিমারি ও লকডাউনের জন্য গত দু’বছর স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একেবারেই তলানীতে থেকে। কিন্তু তারই উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান পড়ুয়ার সংখ্যা ২০৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৭ জন। এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন সম্পর্কে পলাশ চৌধুরী রবিবার জানান, শুধু নিয়ম মাফিক ক্লাস আর নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি এই গতানুগতিক পদ্ধতিতে তার স্কুল চলেনা। পড়ুয়াদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জন্মাতে তাঁরা কমিউনিটি সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি শিক্ষকবিহীন শ্রেণিতে পাঠদান করেন। সেটাই একবারে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে। এছাড়াও পড়ুয়াদের নিয়ে ডাটাবেস তৈরির ব্যাপারেও তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন।

অন্যদিকে ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান পেতে চলা আর এক সিউড়ির ইটাগড়িয়ার বাসিন্দা তথা শিক্ষক মহম্মদ উজির আলি ইটাগড়িয়া গ্রামের স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করে চলে আসেন বর্ধমান। এরপর বর্ধমান টাউন স্কুল, সিএমএস স্কুলে তিনি পড়াশুনা করেন। বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে স্নাতকস্তরের ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হওয়ার পর ইটাগড়িয়া হাইস্কুলেই প্রথম শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরে ২০০৭ সালে তিনি খণ্ডঘোষের নিশ্চিন্তপুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যেখানে বর্তমান পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৪৪ জন। এবং শিক্ষক সংখ্যা ২৩ জন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষকতাকে কেবল পেশা হিসাবে নয়, আন্তরিক ভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি একজন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক। কিন্তু তাঁর মাদ্রাসার পড়ুয়াদের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টিমূলক ধারণা জাগানো ও শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিষয়ে মানোন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেন। সে কারণেই মাদ্রাসার রূপকেও সৌন্দর্যতা দিতে পেরেছেন। আর এ ব্যাপারে তাঁর প্রধান অনুপ্রেরক তাঁর দাদা মহম্মদ ইয়াসিন।

তাদের এই স্বীকৃতির খবরে পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘আমাদের জেলার দুই স্কুলে শিক্ষক আজ শিক্ষক রত্ন সম্মান পাচ্ছেন, আমরা গর্ব বোধ করছি। বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন-সহ সামগ্রিক উন্নতি সাধনে এই দুই শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাজ্য সরকার তাঁদের যোগ্য সম্মানেই ভূষিত করতে চলেছে।’

পাশাপশি এই দুই শিক্ষক তাঁদের কাজের জন্য সর্বদাই সমাদর পেয়েছেন। স্কুলের পড়ুয়ারা যেমন তাদেরকে সম্মান করেন , তেমনই অন্যান্য শিক্ষকদের কাছেও তাঁরা অনুপ্রেরণা। এবার সেই দুই শিক্ষক রাজ্য সরকার প্রাপ্ত স্বীকৃতি ‘শিক্ষা রত্ন’ পাওয়ার খবরে খুশি স্কুলের পড়ুয়া, কর্তৃপক্ষ সহ জেলার শিক্ষক মহল।

You may also like