করোনা যোদ্ধা পুলিশদের সম্মান জানিয়ে খোলা চিঠি মমতার

9

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা মোকাবিলায় সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়ছেন পুলিশ কর্মীরা। মহামারীর প্রকোপের মধ্যেই আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড় আমফানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করতে প্রাণপন করে কাজ করতে হয়েছে তাদের। এবার রাজ্যের পুলিশকর্মীদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলি্শ কর্মী, আধিকারিক ও কর্মীদের ও তাদের পরিবারের এই ‘আন্তরিকতা’ ও ‘অবদান’কে কুর্নিশ জানিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি।

রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক বীরেন্দ্রকে পাঠানো এক চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এই সঙ্কটের সময়ে রাজ্য পুলিশের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। যেভাবে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় পুলিশকর্মীরা কাজ করেছেন, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এছাড়াও, সবরকম পরিস্থিতি সামাল দিতে যেভাবে অফিসার থেকে একেবারে নীচুতলার কর্মীরাও দিনরাত পরিশ্রম করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য। মুখ্যমন্ত্রী একইসঙ্গে জানিয়েছেন, পুলিশ আধিকারিকদের পাশাপাশি, তাঁদের স্ত্রী’রাও যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা অভূতপূর্ব। রাজ্যের এই দুর্দিনে সকলেই এগিয়ে এসেছেন রাজ্যের পাশে। যার জন্য রাজ্য সরকার সকলের কাছেই কৃতজ্ঞ।

তবে রাজ্যের পুলিশকর্মীদের উদ্যেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রীর এই আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে অন্য তাৎপর্যও খুঁজে পাচ্ছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তাদের মতে কোরানা মোকাবিলায় সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করা পুলিশ কর্মীরা নিজেরাই ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছেন। প্রতিদিন যেভাবে একাধিক পুলিশের কর্মীও আধিকারিকেরা সংক্রমিত হয়ে পড়ছেন তাতে তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জোরাল প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। করোনা যোদ্ধা পুলিশ কর্মীরাই নিজেদের নিরপত্তার পর্যাপ্ত উপকরণ পাচ্ছেন না বলে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে বিক্ষোভ চরমে উঠেছিল। যার জের লালবাজার হয়ে নবান্ন পর্যন্ত গড়ায়। পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে সেখানে ছুটে যেতে হয়। তারপরেও বিক্ষোক্ষ থামেনি। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের হাতে মার খেতে হয় পদস্থ আধিকারকিকে।বিক্ষোভের আগুন নেভাতে সেখানে কার্যত গণ বদলি নীতি প্রয়োগ করতে হয়েছে সরকারকে। একই সঙ্গে বাহিনীর সর্বস্তরের কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। কোভিড মোকাবিলায় কাজ করা পুলিশ কর্মীদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। তারপর তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে এই খোলা চিঠি। কিন্তু পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে শুধু প্রশংসা করে চিঠি দিয়ে পুলিশকর্মীদের ক্রমাগত পুঞ্জিভূত ক্ষোভের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া যাবে না বলে প্রশাসনিক মহলের অভিমত।