‘দিল্লির বসদের বকা খাচ্ছেন’! মমতার বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে খোঁচা মান্নান-সুজনের

7
kolkata bengali news

Highlights

  • ‘বৈঠকে না গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন’
  • ‘দিল্লির বসদের বকা খেয়ে এখন আমাদের আক্রমণ করছেন মমতা’
  • মু্খ্যমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন আবদুল মান্নান, সুজন চক্রবর্তীরা

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে চলতে থাকা নানা ইস্যুতে গতকাল ভারত-বনধ ডেকেছিল বামপন্থীরা। কিন্তু এই ধর্মঘটের জেরে পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে মারাত্মক অশান্তি ছড়ায়। ঘটনার জেরে যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে বাম সমর্থকরা। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মারাত্মক ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জানান, এই ঘটনার জেরে বিজেপি বিরোধী বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছেন। মু্খ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পরেই তাঁকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন আবদুল মান্নান, সুজন চক্রবর্তীরা।

‘বিজেপির হয়ে কাজ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিকত্ব বিরোধী প্রস্তাবে সায় না দিয়ে এবং বিজেপি বিরোধী বৈঠকে না গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। দিল্লির বসদের বকা খেয়ে এখন আমাদের আক্রমণ করছেন মমতা।’

ঠিক এমন চাঁচাছোলা ভাষাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে একহাত নেন বিরোধীরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এদিন অভিযোগ তোলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা তিনি কক্ষের মধ্যেই করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, মমতা যদি মনে করেন যে তাঁর জন্য দিল্লির বৈঠক আটকে যাবে সেটা তিনি ভুল ভাবছেন।

অন্যদিকে, বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলায় ধর্মঘট সফল হয়েছে। এরপরেই দিল্লির বসদের কাছে বকা খেয়েছেন মমতা। কীকরে বনধ সফল হল তার উত্তর না পাওয়াতেই মমতাকে বকা দিয়েছে তারা।’ সুজনের সাফ বক্তব্য, রাজীব কুমারকে বাঁচাতে দিল্লিতে গিয়ে যাদের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তাঁরাই তাঁর বস। এখন তাঁদের থেকে বকা খেতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে।

উল্লেখ্য, প্রসঙ্গত, গতকালের বনধ নিয়ে বাম-কংগ্রেসের উদ্দেশে বেনজির তোপ দাগতে শোনা গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীকে। বলেছিলেন, ‘আমাদের রাজ্যের সিপিএমের চেয়ে কেরলের সিপিএম অনেক ভাল।’ মমতা বলেন, ‘আমি SC-ST উন্নয়ন করছি, এরা বাসে আগুন দিচ্ছে। দিল্লিতে BJP-বিরোধী বৈঠকে আমি যোগ দেব বলেছিলাম, তবে বাম-কংগ্রেস রাজ্যে যা করছে, তাতে আমি যাওয়ার পরিকল্পনা প্রত্যাহার করছি।’ একইসঙ্গে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে লড়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল বিরোধী বাম এবং কংগ্রেস। কিন্তু জোট বাধার এই উদ্যোগ গোড়াতেই কিছুটা ধাক্কা খেল রাজ্য বিধানসভায়। কেননা বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ করানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি রাজ্য সরকার।