জোড়া গোল দুই তারকার, মেসির রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে, পেলেকে টপকে গেলেন মেসি

13
ম্যাচের দুই নায়ক মেসি ও এমবাপ্পে।

মহানগর ডেস্ক: রেকর্ডের বন্যা বইল প্যারিসে। পার্ক দি প্রিন্সেসে জোড়া গোল করে পেলেক টপকে গেলেন লিওনেল মেসি। একই ম্যাচে জোড়া গোল করে আবার মেসির রেকর্ড ভাঙলেন তাঁর পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে ক্লাব ব্রুগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে পৌঁছে গেল ফরাসি জায়ান্টরা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো আগেই নিশ্চিত করে রেখেছিল পিএসজি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তাই ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার। এই ম্যাচে প্রথম গোল পেতে মাত্র ৭০ সেকেন্ড সময় লাগে পিএসজির। এরপর সাত মিনিটে ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। দু’টি গোলই করেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের ৩০তম। এই মাইলফল ছোঁয়ার নিরিখে দ্রুততম ফুটবলার হয়ে গেলেন ফরাসি তারকা।

ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে মাত্র ২২ বছর ৩৫২ দিন বয়সে ৩০ গোল করে ফেললেন ফ্রান্সের তরুণ তারকা। আগের রেকর্ডটি ছিল মেসির। আর্জেন্টাইন যুবরাজ ২৩ বছর ১৩১ দিন বয়সে ৩০ গোলের মাইলস্টোন স্পর্শ করেছিলেন। এরপরেই রেকর্ড বুকে নাম তুললেন লিও মেসি। জীবদ্দশায় নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙতে দেখার কথা হয়তো কয়েক বছর আগেও ভাবেননি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। কিন্তু তারপরই ফুটবল বিশ্বে আবির্ভাব হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির। যাঁরা দু’জনেই ছাড়িয়ে গেলেন পেলের ৭৫৭ গোলের রেকর্ড।

চলতি বছরেই পেলের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়েছেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ তারকার গোলসংখ্যা এখন ৮০১। আর মঙ্গলবার রাতে ফুটবল সম্রাটকে দুই থেকে তিনে নামিয়ে দিলেন মেসি। ব্রুগের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মেসির গোল সংখ্যা ছিল ৭৫৬, যা পেলের চেয়ে একটি কম। পেলের সঙ্গে একাসনে বসতে মেসি সময় নেন ৩৮ মিনিট। এমবাপ্পের পাস ধরে মাঝমাঠ থেকে ড্রিবল করে এগিয়ে যান প্রতিপক্ষের রক্ষণে। পরে ডি-বক্সে ঢোকার মুখে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। সেইসঙ্গে পেলেকে টপকে যান তিনি। ডি-বক্সের মধ্যে মেসিকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। যেখান থেকে সহজেই স্কোরশিটে নাম তোলেন প্রাক্তন বার্সা তারকা। স্প্যানিশ ক্লাবের জার্সিতে ৬৭২, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে ৮০ এবং নতুন ঠিকানা পিএসজির হয়ে ছয় গোল করে পেলের ৭৫৭ গোলের রেকর্ড ভাঙলেন মেসি। বর্তমানে তাঁর পেশাদার কেরিয়ারে গোল ৭৫৮টি।

পাশাপাশি রোনাল্ডোর একটি রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৮টি ভিন্ন ক্লাবের বিপক্ষে গোলের রেকর্ড ছিল সিআর সেভেনের। ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে মেসিও ৩৮তম প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ালেন। এই রেকর্ড বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে নতুন প্রতিপক্ষের।

৬৮ মিনিটের মাথায় অবশ্য ব্রুগ একটি গোল শোধ করলেও, পিএসজির জয় রুখতে পারেনি। ছয় ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ-র দ্বিতীয় হয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছল পিএসজি। এক পয়েন্ট বেশি পেয়ে শীর্ষে থেকে কোয়ালিফাই করেছে পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যাঞ্চেস্টার সিটি।