CFL: ভবানিপুরকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে কলকাতা লিগের সেমিফাইনালে মহামেডান

42
ম্যাচের সেরা ফয়াজকে কোলে তুলে উচ্ছ্বাস সাদা-কালো শিবিরের।

মহানগর ডেস্ক: দিনের শুরুটা দেখে সবসময় শেষ পরিণতি ঠিক করা যায় না। মহামেডান ম্যাচটি যেন তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ। দু’মিনিটের মাথায় পেনাল্টি মিস করেও ৭-০ গোলের বিশাল জয়। ভাবা যায়!

শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ভবানীপুর ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিল মহামেডান স্পোর্টিং। ডুরান্ড কাপে ফাইনালে উঠেও ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার যাবতীয় ক্ষোভ যে ভবানীপুরের ওপর দিয়ে মেটাবে সাদা-কালো ব্রিগেড, তা কিন্তু কেউই ভাবেননি।

ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় মহামেডান। আজহারের পাস থেকে বিপক্ষ বক্সে বল পেয়ে যান শেখ ফয়াজ। বাগানের প্রাক্তন এই তারকাকে রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসেন ভবানীপুরের গোলরক্ষক। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ময়দানের তৃতীয় প্রধান। কিন্তু স্পট কিক জালে জড়াতে ব্যর্থ হন ডুরান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্কাস জোসেফ।

তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, দিনটা হয়তো মহামেডানের জন্য নয়। কিন্তু এই ভাবনার স্থায়িত্ব ছিল না বেশিক্ষণ। ম্যাচের ২৯ মিনিটে আর ফয়াজকে রুখতে পারেনি ভবানীপুর। ১৮ গজ দূর থেকে দুরন্ত শটে তিনি এগিয়ে দেন আন্দ্রে চেরনিশভের দলকে। ম্যাচের ৪৩ মিনিটের ফের জ্বলে ওঠেন ফয়াজ। বাঁ দিক থেকে মিলন সিং ক্রস বাড়ালে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করার পাশাপাশি দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে এই বঙ্গতনয়।

প্রথমার্ধেই আরও দু’টি গোলের দেখা পেয়ে যায় মহামেডান। ফলে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে পেনাল্টি মিসের প্রায়ঃশ্চিত্ত করেন মার্কাস। এর পরের মিনিটেই ফের জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মহামেডানের এই বিদেশি ফরোয়ার্ড। এক্ষেত্রে মার্কাসকে অ্যাসিস্ট করেন ফয়াজ। নিজে জোড়া গোল করা ছাড়াও একটি গোলের সহায়তা করে প্রথমার্ধেই ভবানীপুরে কোণঠাসা করে দেন ফয়াজ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও দাপট বজায় রাখেন চেরনিশভের শিষ্যরা। ৪৭ মিনিটে আজহারউদ্দিনের পাস থেকে ব্রেন্ডন মহামেডানের হয়ে পাঁচ নম্বর গোলটি করেন। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন নিকোলা। সেইসঙ্গে হাফডজন গোল হজম করার লজ্জা পায় ভবানীপুর।

এখানেই শেষ নয়। সাদা-কালো ফুটবলারদের গোলক্ষুধা হয়তো তখনও মেটেনি। নির্ধারিত সময় শেষে ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জসকরণপ্রীত সিং ভবানীপুরের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন। প্রথমার্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই ম্যাচের সেরা হয়েছে শেখ ফয়াজ।