‘ওঁর আরও একটা দিক আমার দেখা,যা অনেকের অজানা’, মুনমুনের চোখে ‘অন্য’ সুব্রত

59
প্রয়াত পঞ্চায়েত মন্ত্রীর 'সেলুলয়েড সফর' অনেকেরই অজানা

মহানগর ডেস্ক : সদ্য পেয়েছেন খবরটা। প্রতিক্রিয়া- মনের ভাব কোনও কিছুই জানাবার অবস্থায় নেই তিনি। কারণ সম্পর্কটা যে বহু পুরনো। কথা হচ্ছে মুনমুন সেন এবং প্রয়াতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে । তাঁর পরিবার এবং তাঁর স্বামী রানার সঙ্গে এক আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল যে মানুষটার আলোর উৎসবে সবকিছু ফিঁকে করে দিয়ে চলে গেছে সে।

মুনমুন সেনের কথাতেই, এক তুখড় রাজনীতিবিদ ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। রাজনীতির দিক থেকে যেমন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে তেমনি বন্ধুত্ব বা ব্যক্তিগত জীবনেও একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। সবথেকে বেশি দায়িত্ববান এবং গোছানো রাজনীতিবিদ যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে তা ‘সুব্রতদা’ জানালেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রতিটি কাজ করতেন নিষ্ঠাগতভাবে। কলকাতার মেয়র থাকাকালীন শহরকে দিয়েছিলেন অন্যরূপ। মুনমুন সেনের কথায় দলগত আদর্শ আর প্রশাসনিক দায়িত্ব না ফেলে যথাস্থানে যথা কাজ করার গুণ ছিল তাঁর মধ্যে। ছিলেন স্পষ্টবাদী এবং শিক্ষিত রাজনীতিবিদ। তবে আনন্দ উৎসবের দিনে এই শূন্যতা মানতে পারছেন না বন্ধু মুনমুন সেন। শেষ দেখা হয়েছিল দুর্গাপুজোয়। প্রসঙ্গত অভিনেত্রী জানান,’ এবার দুর্গা পুজোয় ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার। কোনওরকম আগাম বার্তা ছাড়াই। হঠাৎ মনে হল একবার একডালিয়া এভারগ্রীন এর পুজোয় যাই। চলে গেলাম আমি আর রানা। দেখা হলো বহুদিন বাদে। খানিক গল্পগুজবও। আজ মনে হচ্ছে ভাগ্যিস গিয়েছিলাম!’

তবে মুনমুনের চোখে আরও এক রূপ আছে তাঁর সুব্রত দার। প্রয়াত পঞ্চায়েত মন্ত্রীর সেলুলয়েড সফর অনেকেরই অজানা। সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান,’ অনেকেই কিন্তু জানেন না, প্রসেনজিৎ ,সৌরভ গাঙ্গুলী এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায় এর মধ্যে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই প্রথম ছোটপর্দায় অভিষেক করেছিলেন। দূরদর্শনে ওঁর প্রথম ধারাবাহিক। নাম ‘চৌধুরী ফার্মাসিউটিক্যালস’। তাতে ওঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলাম আমিই’।

বন্ধুত্বের সুবাদেই একই দলের হয়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন মুনমুন সেন। যুদ্ধে জয়ীও হয়েছিলেন। রাজনীতির প্রথমপাঠ নিয়েছিলেন প্রবাদপ্রতিম এই ব্যক্তিত্বের থেকে। রাজনীতি যাঁর নখদর্পণে শিখেছিলেন তাঁর থেকেই রাজনীতির নানা খুঁটিনাটি। বন্ধু, সহকর্মী, শিক্ষাগুরু একই অঙ্গে এত রূপ ছিল প্রয়াত মন্ত্রীর। কিন্তু যে মানুষটার সাহচর্যে এত দূর আসা সেই মানুষটাই ‘না’ বলে চলে গিয়েছেন ‘না ফেরার দেশে’।