করোনার ভয়ে দূরে পরিজনরা, ইদের নামাজ সেরে হিন্দু পড়শির দেহ নিয়ে শ্মশানে আশিক, সানিরা

8
kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে জনজীবন এলোমেলো করে দিয়েছে মারণ করোনা ভাইরাস। মানুষের প্রাণের পাশাপাশি কেড়ে নিচ্ছে রুটিরুজি। শুধু তাই নয়, এই করোনা ভাইরাসের কারণে আজ আপনজন পর হয়ে গিয়েছে মানুষের কাছে। করোনা আক্রান্ত স্বজনের খোঁজ নেওয়ার সাহস দেখাতে পারছে না পরিজনরা। আবার করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে ভয়ে কাছের লোকজনও আসতে সাহস দেখাচ্ছে না। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে এই দেশে। করোনার কারণে আত্মীয়-পরিজনদের মধ্যে দূরত্ব বাড়লেও এই করোনার দৌলতে আবার অনেক নতুন পরিজন পাওয়া যাচ্ছে। তেমনই ঘটনা ঘটেছে হুগলির পোলবার দাদপুর ব্লকের বাবনান গ্রামে।

​এই গ্রামের বাসিন্দা হরেন্দ্রনাথ সাধুখা মারা যান বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। ৭২ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ গত কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। করোনা পরীক্ষা করার আগেই তার মৃত্যু হয়। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত দিশাহারা হয়ে যান তাঁর একমাত্র ছেলে। তিনি সবার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু করোনার আবহে কেউ এগিয়ে আসেননি। এই কথা কানে যায় প্রতিবেশী গোলাম সারোয়ার, গোলাম সুবানি আশিক মোল্লা, সেখ সানিদের।

আজ সকালে প্রত্যেকে ইদের নামাজ পড়ে যে যার মতো করে বাড়িতে সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হরেন্দ্রনাথ সাধুখার মৃত্যুতে তাঁর ছেলের এই অসহায়তার খবর তারা জানতে পেরে প্রত্যেকেই এগিয়ে আসেন। করোনার কথা ভুলে সবাই দল বেঁধে হাজির হন তার বাড়িতে। নিজেরাই জোগাড় করেন খাটিয়া। আনেন ফুল। সেই খাটিয়ায় তোলা হরেন্দ্রনাথ সাধুখার দেহ। সংখ্যালঘু ওই যুবকরা কাঁধে করে দেহ নিয়ে যান শ্মশানে। সেখানে শেষকৃত্য হয়। এলাকার প্রতিবেশী মুসলিমদের এমন মানবিক সাহায্যে আপ্লুত হয়ে ওই বৃদ্ধের একমাত্র ছেলে। কিন্তু, যারা এমন সাহায্য করেছেন তারা বিরাট কিছু করেছেন বলে মনে করছেন না। তাঁদের বক্তব্য, মানুষ এখন অসহায়। এই পাশে না দাঁড়ালে আর কবে মানুষের পাশে দাঁড়াব আমরা।