শরদ পাওয়ার এনডিএ–তে এলে ‘বড় পদ’ পাবেন, এনসিপি নেতাকে ‘টোপ’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

40
kolkata bengali desk

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শরদ পাওয়ার এনডিএ–তে যোগ দিলে ‘বড় পদ’ পাবেন বলে ঘোষণা করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আথাওয়ালে। বর্ষীয়ান এনসিপি নেতার প্রতি মন্ত্রীর উপদেশ শিবসেনার সঙ্গে থেকে তিনি কোনও সুবিধাই পাবেন না, ফলে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা–এনসিপি–কংগ্রেসের জোট ভেঙ্গে শরদ পাওয়ারের বেরিয়ে আসটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

একটি সাংবাদিক সম্মেলনে আথাওয়ালে বলেন, ‘’শিবসেনার উচিত বিজেপি’র সঙ্গে হাত মেলানোর। যদি শিবসেনা আমাদের সঙ্গে না আসে তাহলে আমি এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের কাছে আবেদন করছি, রাজ্যের উন্নতির জন্য উনি এনডিএ–তে যোগ দিন। ভবিষ্যতে উনি খুব বড় পদ পেতে পারেন। শিবসেনার সঙ্গে থাকার কোনও সুবিধাই নেই।‘’

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে যথেষ্ট গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু তদন্ত এবং কঙ্গনা রানাওতের বাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে শিবসেনা বিজেপি’র সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দু’দিন আগেই হঠাৎ করে মুম্বইয়ের এক বিলাসবহুল হোটেলে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত দেখা করেন। শিবসেনা নেতা অবশ্য জানিয়েছেন, দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’র জন্য সাক্ষাৎকার নিতে তিনি ফড়নবিশের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তার এই সাক্ষাতের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরে জানতেন।

রাউত যাই বলুন, রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি অন্য মাত্রা পায় রাউত–ফড়নবিশ সাক্ষাতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বাড়ি পৌঁছে যাওয়ায় । তাদের মধ্যে চল্লিশ মিনিট ধরে একান্তে প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলা হলেও গোটা বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা হাওয়ায় ভাসতে শুরু করেছে। তার মধ্যে শরদ পাওয়ারকে এনডিএ–তে যোগ দেওয়ার জন্য আথাওয়ালের আমন্ত্রণ জল্পনায় আরও ইন্ধন জোগাবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২০১৯ সালে মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপি পেয়েছিল ১০৫টি আসন। কিন্তু তাদের জোটসঙ্গী শিবসেনা মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদ দাবি করায় সমঝোতা ভেঙে যায়। অন্যদিকে শিবসেনা মাত্র ৫৬টি আসনে জিতে এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে যৌথ ভাবে সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে।