কাজে এল না জাদেজা-সাইনির রূপকথার লড়াই, কিউয়িদের বিরুদ্ধে ODI সিরিজ হার ভারতের

21
indian cricket news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কয়েকদিন আগেই টি২০ সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল ভারতীয় দল। আর ওয়ানডে সিরিজে সেই নিউজিল্যান্ডের কাছেই পর্যুদস্ত হল মেন ইন ব্লু। ইডেন পার্কে সাইনি ও জাদেজার মহাকাব্যিক পার্টনারশিপ সত্ত্বেও ২২ রানে হেরে গেল ভারত। আর এর ফলে তিন ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া হয়ে গেল কোহলি অ্যান্ড কোংয়ের।

নিউজিল্যান্ডের ২৭৩ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভাল করতে পারেনি ভারত। রোহিত বা শিখর না থাকায় এই সিরিজে ওপেন করছেন মায়াঙ্ক ও পৃথ্বী। গত ম্যাচে কেউই খুব একটা সফল হননি। একই অবস্থা এই ম্যাচেও। মাত্র ৩ রান করে বেনেটের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মায়াঙ্ক। এর কিছু পরেই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা দীর্ঘদেহী জেমিসনের দুরন্ত ইন্সুইঙ্গারে বোল্ড হয়ে যান পৃথ্বী শ (২৪)।

এইরকম চাপের পরিস্থিতিতে আগে বহুবার দলকে উতরে দিয়েছেন বিরাট কোহলি। কিন্তু এদিন তিনিও ফ্লপ। সাউদির বলে বোল্ড হন তিনিও (১৫)। ব্যর্থ লোকেশ রাহুল (৪), কেদার যাদব (৯), শার্দূল ঠাকুর (১৮)। একমাত্র চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা শ্রেয়স আইয়ারই শিবরাত্রির সলতের মতো লড়াই চালিয়ে যান। গত ম্যাচে প্রথম ওয়ানডে শতরানের পর এদিন গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান করেন তিনি। ৫৬ বলে এদিন হাফ সেঞ্চুরি করেন এই তরুণ তারকা। যদিও এর পরেই বেনেটের বলে আউট হয়ে যান তিনি।

শ্রেয়স আউট হয়ে যাওয়ার পর সকলেই মনে করেছিলেন আজ বেশ বড় ব্যবধানেই হারবে ভারত। কিন্তু তারপরেই যেন অন্য এক রূপকথা। অষ্টম উইকেটে জুটি বাঁধলেন নভদীপ সাইনি ও রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের টপ অর্ডারের তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানরা যেটা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন সাইনি ও জাদেজা। ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা কিউয়ি বোলারদের স্রেফ সামলালেনই না, তাদের ঠ্যাঙালেনও বেধড়ক। অষ্টম উইকেটে উঠল মহামূল্যবান ৭৬ রান।

ভারত জিততে পারে, এই ধারনাটা যখন সবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন ভারতীয় সমর্থকরা, ঠিক তখনই আবার ছন্দপতন। জেমিসনের বলে বোল্ড হয়ে যান সাইনি (৪৫)। যদিও হাফ সেঞ্চুরি করেন জাদেজা। টানটান উত্তেজক এই ম্যাচ জিততে শেষ তিন ওভারে ভারতের দরকার ছিল ১৮ রান, হাতে দুই উইকেট। কিন্তু হল না শেষরক্ষা। আউট হয়ে যান চাহাল (১০) ও রবীন্দ্র জাদেজা (৫৫)। ভারত ৪৮.৩ ওভারে ২৫১ রানেই অলআউট হয়ে যায়। এই ম্যাচে হারের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে খোয়াল ভারত। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন বেনেট, সাউদি, জেমিসন ও গ্র্যান্ডহোম। একটি উইকেট নেন নিশাম। ম্যাচের সেরা হন অভিষেক হওয়া কাইল জেমিসন।

প্রসঙ্গত, এদিন টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। শুরুটা অবশ্য একেবারে মেজাজেই করেছিলেন মার্টিন গাপ্টিল ও হেনরি নিকোলস। খুব দ্রুত রান তুলছিলেন তারা। ক্রমশ ভয়ঙ্কর হতে থাকা দুই কিউয়ি ওপেনারকে থামাতে স্পিনার নিয়ে আসেন কোহলি। আর তাতেই কেল্লাফতে। ১৭তম ওভারে চাহালের বলে লেগ বিফোর হন হেনরি (৪১)। এরপর তৃতীয় উইকেটে টম ব্লান্ডেল ও গাপ্টিল কিছুটা প্রত্যাঘাত করতে চাইলেও টমকে ফেরান শার্দূল (২২)।

আর এরপরেই যেন ধস নামে ব্ল্যাক ক্যাপস ব্যাটিং লাইন আপে। গত ম্যাচে যে ভারতীয় বোলাররা একেবারে নির্বিষ হয়েছিলেন, আজ তারাই যেন আগুন ঝরাতে শুরু করেন। মার্টিন গাপ্টিল বেশ অনেকক্ষণ ধরেই ভারতীয় বোলারদের সামলালেও ব্যক্তিগত ৭৯ রানে রান আউট হয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর ভারতীয় বোলারদের দাপটে পরপর ফিরে যান অধিনায়ক লাথাম (৭), নিশাম (৩), গ্র্যান্ডহোমরা (৫)। ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে কার্যত নুইয়ে পরে কিউয়ি মিডল অর্ডার।

যদিও গত ম্যাচের মতোই এদিনও ব্যাট হাতে দুরন্ত অভিজ্ঞ রস টেলর। একদিকে পরপর উইকেট পড়লেও অন্যদিকে একেবারে জগদ্দল পাথরের ন্যায় খেলা চালিয়ে যান তিনি। ৬১ বলে পূর্ণ করেন কেরিয়ারের ৫১তম ওয়ানডে অর্ধশতরান। তবে পরপর উইকেট পরে যাওয়ায় তিনিও যেন কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলা খেলছিলেন। যদিও ডেথ ওভারে কিছুটা হলেও চালিয়ে খেলেন রস টেলর ও অভিষেক হওয়া কাইল জেমিসন। নবম উইকেটে ৫০রানের বেশি পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন তারা। শেষমেশ ডেথ ওভারে লুজ বোলিংয়ের সুবাদে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রান করে নিউজিল্যান্ড।