PSG: সদ্য প্রয়াত মারিলিয়া মেন্ডোনাকে জোড়া গোল উৎসর্গ করলেন নেইমার, এমবাপ্পের দাপটে জিতল পিএসজি

20
ম্যাচের দুই নায়ক নেইমার এবং এমবাপ্পে।

মহানগর ডেস্ক: টানা তিন মরসুম একসঙ্গে খেলার সুবাদে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা দারুণ করে ফেলেছেন নেইমার এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে লিওনেল মেসি এই মরসুমে পিএসজিতে নাম লেখানোর পর দু’জনের মধ্যে সেই রসায়নটা আর দেখা যাচ্ছিল না। আদতে তাতে ভুগছিল পিএসজি, চিন্তায় ছিলেন সমর্থকরাও।

অবশেষে সমর্থকদের সেই মাথাব্যথা দূর করলেন নেইমার-এমবাপ্পে জুটি। তাঁদের যুগবন্দিতেই লিগ ওয়ানের ম্যাচে বোর্দোকে তাদের মাঠে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। নেইমার গোল করেছেন দু’টি। আর সেই দুই গোলেই প্রত্যক্ষ সহায়তা ছিল এমবাপ্পের। এই ফরাসি তারকা নিজেও স্কোরশিটে নাম তুলেছেন। তাঁকে গোল করতে সাহায্য করেন জর্জিনহো উইজনালডাম।

নেইমার-এমবাপ্পের এমন পারফরম্যান্সে খুশি পিএসজি ম্যানেজার মাউরিসিও পচেত্তিনোও। ম্যাচ শেষে জোড়া গোল করা নেইমারের বিশেষ প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ও দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছে। জোড়া গোল করেছে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গোল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে ম্যাচের শেষদিকে দু’টি গোল হজম করাটা ভালো চোখে নেননি তিনি। এই বিষয়ে পচেত্তিনো বলেন, ‘আমরা ম্যাচে দুটি ভুল করেছি। আর দুই ভুলেই গোল হজম করেছি। আমরা আরও আগেই ম্যাচটা শেষ করতে পারতাম। তিন গোল দেওয়ার পর দুই গোল হজম করা মানায় না আমাদের।’

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভোগা মেসিকে ছাড়া আরও একটি ম্যাচ খেলতে নেমে তিন পয়েন্ট তুলে পিএসজি লিগের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল। ১৩ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট এখন ৩৪। দুইয়ে থাকা লেসের সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখন ১০ পয়েন্টের। তবে এদিনের ম্যাচে বোর্দো যে একেবারে অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে, তা একেবারেই নয়। বল দখলের লড়াই থেকে গোল লক্ষ্য করে শট, সব ক্ষেত্রেই পিএসজির সঙ্গে তাদের ব্যবধানটা ছিল উনিশ-বিশের। বরং, কিছু ক্ষেত্রে তো বোর্দোরই আধিপত্য ছিল বেশি।

পুরো ম্যাচে যেখানে ৫৬ শতাংশ সময় নিজেদের দখলে বল রেখেছিল ফরাসি জায়ান্টরা, সেখানে বোর্দোর পরিসংখ্যানটা ৪৬ শতাংশ। বিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে ডি মারিয়ারা নিয়েছেন মোট পাঁচটি শট। আর বোর্দো এক্ষেত্রে টেক্কা দিয়ে নিয়েছে ছয়টি শট। ম্যাচের পিএসজি প্রথম গোলটি করে ২৬ মিনিটে। এরপর ৪৩ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার নিজের ও দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। ৬৩ মিনিটে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি সুপারস্টার এমবাপ্পে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটের মাথায় এলিস একটি গোল শোধ করেন। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে নিয়াং গোল করলেও বোর্দোকে আর সমতায় ফেরাতে পারেননি।

এদিন নেইমারের জোড়া গোলের উদযাপনটি ছিল একটু ভিন্ন রকম। নিজের এই দুই গোলই তিনি উৎসর্গ করেছেন সদ্য বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত হওয়া ব্রাজিলিয়ান সঙ্গীত শিল্পী মারিলিয়া মেন্ডোনাকে। প্রথম গোল করার পরে নেইমার তাঁর জার্সি তুলে ব্রাজিলের গায়িকা তথা লাতিন গ্র্যামি বিজয়ী মারিলিয়া মেন্ডোনাকে উৎসর্গ করা একটি বার্তা প্রকাশ করেন। জার্সির নীচে থাকা টি-শার্টে লেখা ছিল, ‘আমি চিরকাল তোমার ভক্ত থাকব, কষ্টের রাণী। শান্তিতে থাকো মারিলিয়া মেন্ডোনা।’

ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও মেন্ডোনাকে উৎসর্গ করেন নেইমার। ২৬ বছর বয়সী মেন্ডোনা ব্রাজিলের একজন তারকা সঙ্গীত শিল্পী। ৫ নভেম্বর বিমান দুর্ঘটনায় তিনি, তাঁর কাকা এবং দুই পাইলট মারা যান। সেই রাতে মিনাস গেরাইস রাজ্যে একটি কনসার্টে যাচ্ছিলেন মেন্ডোনা। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছিলেন। যেখানে তাঁকে সেই বিমানে উঠতে দেখা গিয়েছিল।