Nupur Sharma: হাজিরা এড়ালেন নূপুর শর্মা, চার সপ্তাহ সময় চাইলেন কলকাতা পুলিশকে ইমেল করে

86
Nupur Sharma: হাজিরা এড়ালেন নূপুর শর্মা, চার সপ্তাহ সময় চাইলেন কলকাতা পুলিশকে ইমেল করে

মহানগর ডেস্ক: আজ অর্থাৎ ২০ জুন কলকাতার নারকেলডাঙ্গা থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার। কিন্তু এদিন হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। পরিবর্তে কলকাতা পুলিশকে একটি ইমেল পাঠিয়ে তিনি চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে চার সপ্তাহ পরে তিনি হাজিরা দিতে পারবেন।

নবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে প্রাক্তন বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে যে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তার আঁচ ভারত ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও পড়ে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পয়গম্বর বিতর্কের জেরে জন্ম নিয়েছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডের মত রাজ্যগুলোর বেশ কয়েকটি জায়গায় জারি করা হয়েছিল ১৪৪ ধারাও।

সম্প্রতি মুম্বাই পুলিশ বিজেপির সাসপেন্ডেড জাতীয় মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে তলব করেছিল। আর তারপরই তাঁকে তলব করেছিল কলকাতা পুলিশ। আজ অর্থাৎ ২০ জুন তারিখের মধ্যে তাঁকে নারকেলডাঙ্গা থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১ নং ধারায় তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নূপুর শর্মাকে তলব করেছিল মুম্বাই পুলিশও। আগামী ২৫ জুন তারিখে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই একই ধারায় তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকেও।

এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থানাতে এফআইআর দায়ের করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক আবু সোহেল।

বস্তুত, বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ বিতর্ক চলাকালীন একটি টেলিভিশন শোতে হজরত মহম্মদকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন নূপুর শর্মা। যাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে সংঘর্ষ বাধে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। যার পর বিজেপির মুখপাত্রকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু তাতেও শান্ত করা যায়নি ইসলামিক দুনিয়াকে। তাঁর মন্তব্যের রেশ পৌঁছে গিয়েছে আরব পর্যন্ত। এটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপির পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, “সব ধর্মকে সম্মান চোখে দেখে ভারতীয় জনতা পার্টি। কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় ব্যক্তির প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্যকে একদমই সায় দেয় না গেরুয়া শিবির। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছে দল”। কিন্তু তাতেও থামেনি ক্ষোভের রেশ। আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় বিপদ বেড়েছে ভারত সরকারের।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, “হজরত মহম্মদকে নিয়ে এই ধরণের মন্তব্য করা প্রান্তিক দলগুলির কাজ। কেন্দ্রীয় সরকার এইসব বিষয়কে কোনওভাবেই সমর্থন করে না”।