একমাসের বিরিয়ানির বিল ৩ লক্ষ টাকা! ভুতুড়ে কান্ড দেখে চোখ কপালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

94

মহানগর ডেস্ক: হাসপাতালে রোগীরা আসে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সেই হাসপাতালেই দুর্নীতি। গোপাল রাজ্যজুড়ে ছেয়ে গিয়েছে দুর্নীতি। এবার বিরিয়ানির বিল তিন লক্ষ টাকা! কাটোয়ার হাসপাতালে ভুয়ো বিল দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল। আর এই ভূতুরে বিলে চমকে উঠেছে গোটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু হাসপাতালে বিরিয়ানি নয়, চারাগাছের বিল দু’লক্ষ টাকা যা দেখে কপালে হাত পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

ওষুধের দোকান থেকে কেনা হয়েছে আসবাব। এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বিলে। জানা গিয়েছে, ২৫ দিনে বিরিয়ানির বিল হয়েছে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। আর কে এতো বিরিয়ানি খেলো তাও আবার হাসপাতালে! এমনকি চারাগাছের বিল ২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। এমনকি আরও আশ্চর্যের একই সময় একই দিনে একই কাজে অ্যাম্বুলেন্স ছুটছে কাটোয়া থেকে কলকাতায়। আর এই ধরনের ভুতুড়ে কান্ড দেখেই অবাক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে গাড়ি একই দিনে একই সময় একই কাজে কাটোয়া থেকে কলকাতায় যাচ্ছে সেই গাড়ির কোনও অস্তিত্ব এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকার ভুয়ো এবং অসঙ্গতিপূর্ণ ৮১ টি বিল চিহ্নিত করার পর রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যদের রীতিমতো চক্ষুচড়কগাছ। গাড়ি, গাছ, বিরিয়ানি, আসবাব ওষুধ এই ধরনের একাধিক জিনিসের কথা বলে উল্লেখ করা হলেও তার কোনও বাস্তবতা নেই। আর এই গোটা ঘটনার মধ্যে নজর কেড়েছে বিরিয়ানির বিল। যে খাবার চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী সকলের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিরিয়ানির বিল এক মাসে ৩ লক্ষ টাকা। এরপরে উঠেছে প্রশ্ন। যদি বিল ভুয়ো হয় তাহলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিলে কিভাবে ‘ওয়ার্ক ডান’ স্বীকৃতি দেয়।

এই প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একই গাড়ি কলকাতায় গিয়েছে বিল দেখিয়েছে দুটো, কিছু হয়ত জেরক্স দেখিয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার আগেই বিল দেখিয়ে দিয়েছে। এই ধরনের জিনিস কিভাবে হয়েছে জানা নেই। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। সরকারের তরফে বরাদ্দ হওয়া সবুজায়নের জন্য ১ লক্ষ টাকা বেড়ে দু লক্ষেরও বেশি হয়েছে। চারা গাছের বিল দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিল অনুযায়ী চারাগাছ আসেনি হাসপাতাল চত্বরে।