অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছে আফগানিস্তানের অনাথ শিশুরা, বন্ধ হয়েছে সমস্ত অনুদান

8
Afghanistan
আফগানিস্তানের অনাথ আশ্রম গুলিতে বন্ধ হয়েছে অনুদান

মহানগর ডেস্ক: ২০ বছর পর আবারও নতুন করে আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান জঙ্গী গোষ্ঠী। তারপরেই কাবুলিওয়ালার দেশের ওপর উড়িয়েছে তালিবানদের পতাকা জঙ্গিদের ভয় দেশ ছেড়েছে বহু মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কাবুলে থেকে যাওয়া বহু নাগরিক। সেই কাবুলের এক অনাথ আশ্রমের প্রধান সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে তাঁদের অসহায়তার কথা। তাঁরা বুঝিয়ে দিচ্ছে কোন অন্ধকারের সামনে গোটা দেশ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

গত দু’মাসে তালিবান শাসনের সময়কালে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সমস্ত অনুদান। স্থানীয় অনুদান থেকে বিদেশি অনুদান সমস্তটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাইতো দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। আফগান কিংবা বিদেশীরা। তার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গিয়েছে দূতাবাস থেকে আগত অনুদান। আমি তাঁদের সকলকেই ইমেল করে সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু কেউই সেই জবাব দিচ্ছে না। বর্তমানে আফগানিস্তানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে হাতে আর সামান্য অর্থ রয়েছে। আর রয়েছে গিয়েছে সামান্য খাদ্য। তাই ক্রমাগত বাড়ছে উদ্বেগ। কার্যত আধপেটা খেয়ে দিন কাটাচ্ছে ওই দেশের শিশুরা।

মায়ান অনাথ যে আশ্রম চালান সেখানে ১৩০ টির মত শিশু রয়েছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলছে এই আশ্রমটি। সাধারণত যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের বহু সময় এমন শিশুরা আসে যাদের বাবা মা, সেই যুদ্ধে হামলায় মারা গিয়েছে। বা শুধু বাবা মারা গেছে। মা একা সংসার চালাতে না পেরে সন্তানকে অনাথ আশ্রমে রেখে গিয়েছেন। পাশাপাশি অসংখ্য শিশু রয়েছে যাদের দুজনের মধ্যে কেউই নেই। তাঁদের মাথার উপরে ছাদ ও মুখে খাদ্য যোগান দেয় এই আশ্রমগুলি।

কিন্তু এখন সেই আশ্রম গুলি পড়েছে খাদ্যসংকটে। অনাথ আশ্রম-র বাসিন্দা বছরের ৯ এর ছোট্ট সামিরা জানিয়েছে, বড় হয়ে সে চিকিৎসক হবে। তাদের গরিব দেশের মানুষদের প্রাণ বাঁচাবে সে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে যেখানে খাদ্যসঙ্কট বড় ধাক্কা নিয়ে আসতে চলেছে, সেখানেই স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেনি সেই ছোট শিশুরা। অনাথ আশ্রমের শিশুরা আসা রেখেছে যে, শেষ পর্যন্ত সমস্ত কঠিন পরিস্থিতির পেরিয়ে সূর্যের আলো দেখা যাবে। পৃথিবী আবার শান্ত হবে।