পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার বিশ্বশান্তির পক্ষে বিপজ্জনক, জার্মান সরকারের রিপোর্ট

10

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বুধবার সারা পৃথিবীর সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ সম্পর্কে নজরদারি চালানো সংস্থা ফাইনান্সিয়াল অ্যাশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএ) পাকিস্তানকে জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ধূসর তালিকা ভুক্ত করে রেখেছে। ওইদিনই আমেরিকার স্বরাষ্ট্র দফতরের রিপোর্টেও জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রকারন্তরে সহযোগিতা করার জন্য পাকিস্তানকে তুলোধোনা করা হয়েছে। এবার সামনে এল জার্মানির সরকারি রিপোর্ট। যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত বিষয়ে ইমরান সরকারের কার্যকলাপকে মানব সভ্যতার পক্ষে বিপজ্জনক আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ জুন জার্মানির ২০১৯–এর সাংবিধানিক সুরক্ষার বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্টে ”প্রোলিফারেশন” বা অস্ত্র বিস্তারের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে গণ হত্যার জন্য ব্যবহৃত পারমাণবিক, জৈব এবং রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি বা সেই অস্ত্র নির্মাণের জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োগ। এই দিক থেকে ইরান, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং সিরিয়া ক্রমাগত অস্ত্র সম্ভার বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দেশগুলিতে মজুত অস্ত্রের নিশানা নির্ভুল করতে, অস্ত্রগুলিকে আরও উন্নত ও কার্যকরী করতে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।

ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যে এই ধরনের অস্ত্রসম্ভারের আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন গোটা মানব সভ্যতা ও বিশ্ব শান্তির পক্ষে ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক। রিপোর্টে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে পাকিস্তানের এই অস্ত্রসম্ভার বাড়িয়ে তোলা ও ভয়ঙ্কর অস্ত্র নিয়ে ক্রমাগত পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্যই হল ভারত। বেসামরিক ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে তাদের প্রকল্প জারি রেখেছে।

জার্মানির যে সমস্ত সংস্থা পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সাহায্য করছে তাদের সাবধান করে দিয়ে সাংবিধানিক সুরক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে এই বেআইনি জ্ঞানের পাচার কতটা ভয়ঙ্কর পারিণাম পৃথিবীতে ডেকে আনতে পারে সে বিষয়ে যেন সাহায্যকারীরা সচেতন থাকেন। পাকিস্তান যেহেতু সম্পূর্ণ ভাবে ইওরোপের প্রযুক্তি ও পদ্ধতিপ্রকরণের ওপর নির্ভরশীল সেহেতু জার্মানির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিরও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

পাকিস্তানের বিষয়ে আমেরিকা ও ইওরোপের প্রধান চিন্তা হল, একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যাদের ভূখণ্ডটি সন্ত্রাসবাদীরা ব্যবহার করে শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক দিক থেকেও ভারত ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সহায়তা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান, পাকিস্তান যদি অদূর ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির প্রতি তাদের মনোভাব পরিবর্তন না করে তাহলে এফএটিএ তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে যে চাপ সহ্য করার মতো ক্ষমতা পাকিস্তানের অর্থনীতির নেই। সেই সংকটকালে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষমতা কাদের হাতে গিয়ে পড়বে সেটা যথেষ্ট দুর্ভাবনার বিষয়।