সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিতে গিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পাকিস্তান

7

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সারা পৃথিবী জুড়ে চলা সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে নজরদারি চালানো সংস্থা ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএ) জঙ্গিদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করতে পাকিস্তানের ব্যর্থতার জন্য ইমরান খানের দেশকে ”ধূসর” তালিকাতেই রেখে দিল। বুধবার এক বিবৃতিতে এফএটিএ জানিয়েছে, পাকিস্তান এখনও দুই জঙ্গি সংগঠন লশকর–ই–তৈবা ও জৈশ–ই–মহম্মদ কে দেওয়া আর্থিক সাহায্যের পথ বন্ধ করতে পারেনি। পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় রেখে দেওযার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংস্থার তৃতীয় প্লেনারি অধিবেশনে।

আগামী অক্টোবর মাসে এএফটিএ–র পরবর্তী প্লেনারি অধিবেশন পর্যন্ত পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করে রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে সংস্থার এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন। একই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশে জঙ্গিকার্যকলাপ সম্পর্কিত রিপোর্টে পাকিস্তানকে চূড়ান্ত সমালোচনা করে বলা হয়েছে পাকিস্তান এখনও জঙ্গিদের কাছে নিরাপদ আশ্রয়। লশকর–ই–তৈবা ও জৈশ–ই–মহম্মদ–এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে কার্যকলাপ চালানোর জন্য পাকিস্তান তাদের দেশের মাটিকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

আমেরিকার সেনেট রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভারতের পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনাদের ওপর জঙ্গি হামলা হওয়ার পর পাকিস্তান লশকর ও জৈশ জঙ্গি সহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে আপাত ভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। লশকর–ই–তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছিল। যদিও পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলই হয়ে রয়েছে। যে সব সন্ত্রাসবাদী দল আফগানিস্তান ও ভারতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর জন্য পাকিস্তান তাদের দেশকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

এফএটিএ প্লেনারি অধিবেশনে ভারতের আর্থিক তছরুপ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থ সাহায্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম থেকেই ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে জানিয়ে আসছে যে লশকর, জৈশ ও হিজবুল মুজাহিদিন–এর জঙ্গিদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য হলো ভারত এবং এই সবকটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে প্রত্যক্ষ ভাবে মদত জোগাচ্ছে পাকিস্তান। এফএটিএ–র ধূসর তালিকায় থেকে যাওয়ার ফলে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্ব ব্যাঙ্ক, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে অর্থ সাহায্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ল। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাহায্যের রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ার সম্ভাবনায় দেশ আরও গভীর অর্থিক সংকটের মধ্যে পড়বে বলেই জানাচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।