কংগ্রেসকে জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করতেই পার্থদের নামানো হয়েছিল!

36

নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূল ছেড়ে ‘কংগ্রেসে ঢুকে’ ফের তৃণমূলে গেলেন বিদায়ী কাউন্সিলর পার্থ মিত্র। শনিবারই কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় তাঁর। তার পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ভোলবদল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, কংগ্রেসকে জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করতেই পার্থদের নামানো হয়েছিল!

টিকিট পাননি বলে শনিবার যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে উগরে দিয়েছিলেন একরাশ ক্ষোভ। যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি, সেখানেই তাঁকে টিকিট দেয় কংগ্রেস। এক সময় তিনি ছিলেন ওই ওয়ার্ডে তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর। ভোটের আগে তাঁর দল ছাড়ার খবরে বিড়ম্বনায় পড়ে তৃণমূল। সূত্রের খবর, এর পর তৃণমূলের তরফে শুরু হয় তাঁকে বোঝানোর পালা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার পরেই ডিগবাজি খান পার্থ। কংগ্রেসে গিয়ে টিকিট পাওয়ার পরে পরেই জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূলেই আছেন। পার্থ বলেন, ভোটে লড়াই করাটা আমার কাছে কোনও ফ্যাক্টর নয়। এর পরেই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন পার্থ। তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমকে পাশে বসিয়ে তাঁর দাবি, মিথ্যে প্রচার করা হয়েছিল তাঁর নামে। এও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এবং ফিরহাদ হাকিমের আশীর্বাদে আমি তৃণমূল কংগ্রেসেই আছি। অথচ চব্বিশ আগেই কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেসের হয়েই লড়ব। ১০ বছর তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছি। আমার এলাকায় দেখে যান কোনও খুঁত আছে কিনা। জানি না তৃণমূল কেন আমায় টিকিট দিল না। আমার কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেগুলি পূরণ করতে চাই। তাই এবার ভোটে দাঁড়াতে চেয়ছিলাম। তৃণমূল টিকিট না দেওয়ায় কংগ্রেসের টিকিটে জিতেই আমার ওয়ার্ডের বাকি কাজ সম্পন্ন করব।

একুশের বিধানসভা ভোটের আগে যেমন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক লেগেছিল, তেমনি বিজেপির বিপর্যয়ের পর গেরুয়া ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে শুরু করেন বহু মানুষ। টিকিট না পেয়ে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা ফের তৃণমূলমুখী হন। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে পুরসভার ভোটেও। তৃণমূলের ভরা জোয়ারে জোড়াফুল শিবির ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বঙ্গ রাজনীতিতে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বই কি!