‘আনিস খানের বাড়িতে পুলিশের অভিযান আইন মেনে হয়নি’, আদালতে স্বীকারোক্তি রাজ্যের

58

মহানগর ডেস্ক: এখনও মেটেনি আনিস খানের মৃত্যু তদন্তের মামলা। ক্রমশ যেন জল গড়িয়ে চলেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে খুন হয়েছিলেন আনিস খান। আঙুল উঠেছিল রাজ্যের প্রশাসনের দিকে। সিবিআই তদন্তের দাবি করা হলেও দেওয়া হয়নি সিবিআই তদন্ত। রাজ্য প্রশাসন করে চলেছে তদন্ত। আর এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। আনিস খানের বাড়িতে অভিযান আইন মেনে হয়নি আদালতের স্বীকার করেছে রাজ্য।

এমনকি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের শাস্তির প্রয়োজন জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। যদিও আনিস খানকে হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়ে যায়নি পুলিশ দাবি রাজ্যের। তাই আইনের ৩০২ ধারা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আজ ছাত্রনেতা আনিস খানের হত্যা মামলার বিচারপতি রাজ শেখর মান্থার বেঞ্চে ছিল শুনানি। সেখানেই রাজ্যের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে একাধিক স্বীকারোক্তি।

পাশাপাশি বলা হয়, আনিস খানের বাবা অর্থাৎ সালেম খান এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন। তিনি শুধু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ পেয়েছেন। ধস্তাধস্তি হলে কেউ না কেউ চিৎকারের আওয়াজ পেতেন। অভিযুক্তের মোবাইল পরীক্ষা করেও কোনও চক্রান্তের প্রমাণও পাওয়া যায়নি, বলে জানিয়েছেন রাজ্যের আইন জীবী। এমনকি আমতার ওসি পুলিশকর্মী সৌরভ দাস আনিস খানকে চিনতেন না। এমনকি অন্য আরেক পুলিশকর্মী কাশীনাথ বেরাও আনিস খানকে চিনতেন না। এই তদন্তে যান্ত্রিক পদক্ষেপের কথাও রাজ্যের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু দুই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি স্পষ্ট হয়নি বলে জানান বিচারপতির রাজ শেখর মান্থা। তিনি জানিয়েছেন, শুধু তদন্ত করলেই হবে না। সাধারন মানুষের মনে যাতে আস্থা থাকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলে এদেশের তদন্তকারীরা পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ হতেন বলে দাবি বিচারপতির।

আনিস খানের মৃত্যুতে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। একজন আনিস নিজেই। আর দুই অভিযুক্ত পুলিশ। কর্মী যারা সেই সময় উপস্থিত ছিলেন ঘটনাস্থলে।