মমতার পথেই হাঁটলেন মোদি! কিন্তু বুঝিয়ে দিলেন তিনিই ‘প্রধানমন্ত্রী’

34

মহানগর ডেস্ক: মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী গোয়ায় আপাতত চলতে পারে রোদ-বৃষ্টির লুকোচরি। রয়েছে বজ্রবিদ্যুতেরও সম্ভাবনা। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। আরব সাগর তীরে চলছে পূর্বাভিমুখী ও পশ্চিমাভিমুখী হাওয়ার ঠোক্কর।

গোয়ায় আগেভাগে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে পাঠিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল। তিনি ক্যাথলিক। গোয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষই ক্যাথলিক। পশ্চিমবঙ্গের মতো গোয়ায় আসন্ন নির্বাচনেও কি তাহলে সেই ধর্মের তাস? চলতে পারে আলোচনা।

আরব সাগরের বালুতটে এখন রাজনৈতিক তর্জা। সংবাদ শিরনামে তৃণমূল। প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। বিজেপি কোথায়? গোয়া নির্বাচনের আগে এখনও সেই অর্থে আলোচনায় নেই ভারতীয় জনতা পার্টি। মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকের মাঝে অল্প একটু জায়গা নিয়ে অবস্থিত গোয়া। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-কংগ্রেসের জোট সরকার। কর্নাটকে বিজেপির একক আধিপত্য। পাশের ছোট্টো রাজ্যে নির্বাচন, তার আগে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল এক প্রকার মৌন। বড় কিছু ঘটার আগে আকাশও কেমন থম মেরে থাকে। তাহলে কি…? কথায় রয়েছে ‘নীরবতা সম্মতির লক্ষণ’।

প্রতিবেদন শুরু হয়েছে আবহাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে। বাকি লেখাও চলুক এইভাবে। বয়স্করা বলে থাকেন, ‘যে মেঘ গর্জায় সে মেঘ বর্ষায় না’। গোয়ায় নির্বাচন ২০২২ সালে। ‘২১ সাল শেষ হতে বাকি আর দু’মাস। তার আগে দেখার মতো রাজনীতি শুরু হয়েছে সৈকত-নগরীতে। কংগ্রেসের গড়ে এসে তৃণমূলের এই দাপট অনেকেই ভাবতে পারেননি। ঘাসফুল শিবিরে নাকি লিয়েন্ডার পেজ!

সোনিয়া-রাহুল গান্ধিদের উদ্দেশ্য করে একের পর এক বাক্যবাণ নিক্ষেপ করে চলেছেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। কংগ্রেস ইটের পর বদলে পাটকেল ছুঁড়ছে বটে, তবে তা হাতেগোনা। আপাতত মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তৃণমূল।

গোয়া যখন সরগরম তখন রোমে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দিনকয়েক থাকবে মেঘলা আবহাওয়া। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভ্যাপসা গরম কিংবা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা নেই। ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় রোমে নরেন্দ্র মোদি। গিয়েছিলেন ভ্যাটিকান সিটিতেও। দেখা করেছেন পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে। ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁকে।

পোপ ফ্রান্সিস ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চাট্টিখানি কথা নয়। ইতিমধ্যে ভারতীয় ক্যাথলিকদের অনেকের মনে ধরেছে বিষয়টি। পোপ ফ্রান্সিসকে চোখের সামনে দেখার স্বপ্ন বুনেছেন অনেকে। এতদিন তা বাস্তবায়িত হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভাবনার সেই দরজাটা অন্তত খুলে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রে বসবাসকারী ক্যাথলিকরাও খুশি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেও এসেছিল রোমে যাওয়ার সুযোগ। গোয়ার চার্চের পাশাপাশি সেখানকারও ধর্মস্থানেও একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারতেন। কিন্তু তাঁর যাওয়া হয়নি। দিল্লি থেকে নবান্নে এসেছিল এক লাইনের একটি চিঠি। হল না মমতার রোম যাত্রা। সূত্রের খবর ছিল এমনটাই।

এবারের বর্ষা বিদায় নিয়েছে দেরিতে। শীত জাঁকিয়ে পড়ার অপেক্ষা। বর্ষাকাল আবার সেই সামনের বছর। তার আগে আকাশ কালো করে বৃষ্টি হলেও তা সাময়িক। বর্ষার নতুন মেঘে কে বানভাসি হবে আর কে হবে পুষ্ট, তা জানা যাবে সামনের বছর।