মৃত্যুবরণে নিষেধাজ্ঞা, শুনেছেন কখনো? 

16

 

মহানগর ডেস্ক:  মাইকেল মধুসূদন দত্ত বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় লিখেছেন  “জন্মিলে মরিতে হব, অমর কে কোথা কবে”। জন্ম- মৃত্যু-বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে। মৃত্যুর উপর কারো হাত নেই। যে জন্মগ্রহণ করেছে একদিন না একদিন মরতে তাকে হবেই। প্রতিটি জীবনের মৃত্যু একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জন্ম হলে মৃত্যু তার অবধারিত। মৃত্যু ঘটবেই। কিন্তু মৃত্যু উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এমনটা শুনেছেন কখনো? পৃথিবীর কি এমন স্থান আছে যেখানে মৃত্যু নিষেধ। সত্যি সেলুকাস বড়ো বিচিত্র এ দেশ! চলুন এই বিচিত্র দেশের বিচিত্র ঘটনা সম্পর্কে একটু জেনে নিই-

যেখানে মৃত্যুর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, ঠিক কি কি কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে সেই সম্পর্কে কিছু কথা আজ জানবো।

নরওয়ের লংইয়ারবেন

নরওয়ের সবার্দ দ্বীপের লংইয়ারবেন এ প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসবাস করে। প্রায় ৭০ বছর আগে থেকেই সেখানকার কবরস্থান টি সঙ্কটে আছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে মৃতদেহ না পচে যুগের পর যুগ একই রকম রয়েছে সেজন্য মরণাপন্ন ব্যক্তিরা অন্য শহরে গিয়ে জীবনের শেষ কটা দিন কাটায়। ১৯১৭ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীতে মারা যাওয়া একটা দেহ গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে দেহ তো বটেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পর্যন্ত অবিকল রয়েছে নষ্ট হয়নি তাই এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কেউ মারা গেলে সেই মৃত দেহ জাহাজে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

খ্রিস্টপূর্ব ৫ শতকে গ্রিক দ্বীপ ডেলোসের বাসিন্দাদের মৃত্যুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

২০১২ সালে ইতালির ফালসিয়ানো দেল মসসুকো শহরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য মৃত্যু নিষেধ করা হয়েছে। এই ছোট্ট শহরে মৃত ব্যক্তির কবর দেওয়ার স্থানের অভাব, তাই এই নিয়ম করা হয়েছে।

জাপানের ইসুকুসিমা নামক এই দ্বীপে ও মৃত্যু নিষেধ করা হয়েছে, এখানকার বাসিন্দাদের কাছে এটাই পবিত্রতম স্থান। যদি কেউ মারা যায় তবে এই দ্বীপের পবিত্রতা নষ্ট হবে, তাই বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলাদের এবং খুব অসুস্থ ব্যক্তি রা ধর্মগুরুদের নজরদারি তে থাকেন, মৃত্যু কালে সীমানার বাইরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮৭৮ সালে এই নিয়ম জারি হয়েছে। এখানে একবার যুদ্ধ হয়েছিল, সেই সময় মৃত দেহ তো বাইরে ফেলা হয়েছে, বরং যেখানে যেখানে যুদ্ধের সামান্যতম ছোঁয়া লেগেছিল তা ও নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল।

সেলিয়া -২০১৫ সালে ইতালির এই ছোট্ট শহরে ও একই নিয়ম জারি হয়েছিল। ৫৩৭ জনের এই শহরে সকলের বয়স প্রায় ৬৫ বছরের উপরে।

বিরিটিবা মিরিম- ব্রাজিলের সাও পাওলোর এই শহরের মেয়র ২০০৫ সালে মৃত্যু র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। নদীবহুল এই শহরে কবর স্থান প্রায় পূর্ণ, যা ১৯১০ সালের তৈরি হয়েছিল।

ফ্রান্সের সারপুরনেক্স শহরেও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কেউ আত্মহত্যা র চেষ্টা করে তাহলে তা কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

কি কারণে এই আশ্চর্যজনক বিধি নিষেধ তা জানা গেলো তো প্রথমে শুনেই সবাই খানিকটা অবাক হলেও আসল কারণ জানার পর ব্যাপার টা অনেকটা সহজ হয়েছে।