প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় মানা হয়নি ‘ব্লু বুক’! পঞ্জাব পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতে প্রশ্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

24

মহানগর ডেস্ক: গতকাল হাইওয়েতে ১৫-২০ মিনিট আটকে ছিলো প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। যার পর তাঁর সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে বিক্ষোভ নিয়ে গোয়েন্দাদের তথ্য থাকা সত্বেও, কেন পুলিশ ‘ব্লু বুক’ মেনে চলে নি তাই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

পঞ্জাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয় আটকে পরা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য কেন কোনও জরুরী পথ প্রস্তুত রাখা হয়নি। মূলত গতকাল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় পঞ্জাবে যে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার জন্য পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনকেই দায়ী করা হচ্ছে। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের ‘ব্লু বুক’ প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা নির্দেশিকাকে তুলে ধরে। ব্লু বুক অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় পাঞ্জাবে যে ঘটনা ঘটেছে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য রাজ্য পুলিশের জরুরী রুট প্রস্তুত রাখা উচিত ছিল।

পাশাপাশি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মকর্তারা পঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন সম্পর্কে তাঁদের সতর্ক করেছেন। এই ক্ষেত্রে পুলিশের কর্মকর্তারা ভিআইপিকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সমস্ত কিছু সত্বেও গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। যে কারণে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয় আটকাতে রীতিমতো শোরগোল পরে যায় চারিদিকে। পঞ্জাবে বিক্ষোভের মুখে আটকে পরে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। বাধ্য হয়ে সমস্ত সভা বাতিল করে দিল্লি ফিরে আসেন নরেন্দ্র মোদী। ভাটিন্ডা থেকে হুসেনিওয়ালায় যাওয়ার পথে ঘটে এই ঘটনা। বিজেপির তরফ থেকে গোটা বিষয় নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাস্তায় নিরাপত্তা না দেওয়ায় এগোতে পারেনি কনভয়। পঞ্জাব সরকার নিরাপত্তা দেয় নি দেখে এমন ঘটনা। গোটা বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং পঞ্জাব সরকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে।

এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, বুধবার সকালে ভাটিন্ডা পৌঁছানোর পরে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুসেনিওয়ালায় যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। আকাশের অবস্থা ভালো ছিল না। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর সড়কপথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। না হলে হেলিকপ্টারে করে হুসেনিওয়ালায় যাওয়ার কথা ছিল নরেন্দ্র মোদীর। যে কারণে পঞ্জাব পুলিশের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। অনেকেরই মত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এটি একটি বিরাট ত্রুটি ছিল।