ইঁদুর দেখে বিষম ভয় পেয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন!

40

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছোটবেলায় একবার ইঁদুর দেখে বিষম ভয় পেয়েছিলেন। বেজায় দুষ্টুমি করতেন স্কুলে। মারপিট করেছিলেন জিম প্রশিক্ষকের সঙ্গে। স্কুলের সিনিয়র ছাত্রদের সঙ্গেও হামেশাই জড়িয়ে পড়তেন হাতাহাতিতে। এহেন ভীতু, দুষ্টু ছেলেটিই আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তিধর দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

ভ্লাদিমির পুতিন। যাঁর নাম শুনলেই বুকে ভয় ধরে বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্র প্রধানের, সেই তিনিই ছোটবেলায় ভয় পেতেন ইঁদুরকে। ছোটবেলাটা পুতিনের কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। তাঁর বাবার নাম ভ্লাদিমির স্পিরিদোনোভইচ পুতিন।মা ছিলেন মারিয়া শেলোমোভা। এই দম্পতির প্রথম দুটি সন্তান মারা যায় অকালেই। তাই খুবই আদর-যত্নে রাশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক পুতিনকে লালনপালন করেন তাঁর বাবা-মা।

একটি ছোট্ট ঘিঞ্জি ঘরেই বেড়ে ওঠা পুতিনের। চিলতে ঘরে মা, বাবা ও পুতিনের সঙ্গেই ছিল মেঠো ইঁদুরের ভরা সংসার। নানা বয়সের ইঁদুরের উৎপাতে তটস্থ হয়ে থাকতেন পুতিন পরিবার। জীবনীতে একটা ছোট্ট ঘটনার উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, একদিন ঘরে একটা পেল্লাই সাইজের ইঁদুর ঢুকেছিল। সেটাকে তাড়াতে তাড়াতে ঘরের এককোণে নিয়ে গিয়েছিলাম আমি। হঠাৎ করে ইঁদুরটা আমার ওপর লাফ মারে। এরপর দেখি, আমি ইঁদুরের পিছনে ছুটছি না, বরং ইঁদুর আমার পিছনে ছুটছে। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

স্কুলে খুব দুষ্টুমি করতেন ছোট্ট পুতিন। মারামারি করেছিলেন জিমের প্রশিক্ষকের সঙ্গে। প্রায়ই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তেন স্কুলের সিনিয়র ছাত্রদের সঙ্গে। রাজনীতি নয়, মিস্টার প্রেসিডেন্টের বরাবরের প্রিয় বিষয় ছিল ইতিহাস।

স্কুলের পাঠ চুকিয়ে আইন পড়তে গিয়েছিলেন পুতিন। পরে চাকরি পান কেজিবিতে। ১৯৯০ সালে পা রাখেন রাজনীতিতে। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ক্রমেই উত্থান হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এর পর বছর ঘুরতেই দেশের কার্যকরী প্রেসিডেন্ট। এখনও পর্যন্ত প্রসিডেন্ট পদেই রয়েছেন পুতিন।