‘দিদিকে ডাকো’ পোস্টার নিয়ে ছাদে উঠে চিৎকার বিচারাধীন বন্দির, ধুন্ধুমার হাওড়ায়

19
kolkata news
Highlights

  • জেলের আচরণ বিধি মেনে যে সব বন্দিরা রয়েছে, তাদেরকে সমস্ত রকমের সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে
  • জেলের মধ্যে অবাধে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা ও মদ
  • সংশোধনাগারের এই অব্যবস্থার বদল আনতে এবার ছাদে উঠে চেঁচাতে থাকল এক বিচারাধীন বন্দি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জেলের মধ্যে অবাধে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা ও মদ। সব জেনেও চুপ কারা কর্তৃপক্ষ। অথচ জেলের আচরণ বিধি মেনে যে সব বন্দিরা রয়েছে, তাদেরকে সমস্ত রকমের সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে এই অভিযোগ বারবার জানালেও কোনও লাভ হয়নি। সংশোধনাগারের এই অব্যবস্থার বদল আনতে এবার অন্য রকম উপায় নিল এক বিচারাধীন বন্দি। হাতে লেখা ‘দিদিকে ডাকো’ পোস্টার নিয়ে ছাদে উঠে চেঁচাতে থাকে সে। শনিবার এই ঘটনায় হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটে হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে।

শনিবার সকালে হাওড়ার মল্লিকফটকে জেলা সংশোধনাগারের ছাদে উঠে পড়ে ওই বিচারাধীন বন্দি। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টাতেও তাকে নামাতে হিমসিম খায় পুলিশ। ছুটে আসে দমকল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর নামানো হয় ওই বন্দিকে। ওই বন্দি ছাদের ওপর থেকে তার দাবি শোনার জন্য চেঁচাতে থাকে। বলতে থাকে, দিদির কাছে সব সমস্যা শেয়ার করতে চায় সে। তার বক্তব্য, গত ১৫ বছর ধরে জেলে রয়েছে। সেখানে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ছাদ থেকে জলের ট্যাঙ্ক তুলে নিচে ছোড়ার চেষ্টাও করে। এদিকে বিচারাধীন বন্দির এই আস্ফালন ও তাণ্ডবের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে।

রক্ষীদের সদা জাগ্রত চোখকে ফাঁকি দিয়েই সংশোধনাগারের ছাদে উঠে পড়ে ওই বন্দি। জেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে চিৎকার শুরু করে। বলতে থাকে, জেলের মধ্যে অবাধে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা ও মদ। সব জেনেও চুপ কর্তৃপক্ষ। অথচ জেলের আচরণবিধি মেনে যে সব বন্দিরা রয়েছে, তাদেরকে সমস্ত রকমের সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বঞ্চনার শিকার হয়ে প্রতিবাদ করতেই সে এমন পদ্ধতি নিয়েছে। এদিকে ওই বন্দিকে উদ্ধার করতে আনা হয় দমকল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই বিচারাধীন বন্দিকে ছাদ থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। তার নাম মহম্মদ শোয়েব। একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত সে। তার দাবির কথা দিদির কাছে জানাতে চাইছিল সে। তাকে উদ্ধারের পর নির্দিষ্ট সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষাও করা হবে। কিন্তু ওই বন্দি ছাদে উঠল কী ভাবে? প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। কারা কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।