দেশ ভাগ হয়েছে, আমাদের আত্মা যেন দ্বিখণ্ডিত না হয়, ক্যাব ইস্যুতে সরব ঋতব্রত

18
bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিতর্কিত তিনি। নিজের দল সিপিএম থেকে বহিষ্কৃতও। কিন্তু আজও রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার সুবাদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই নাগরিকত্ব সংশোধনী ইস্যুতে মন ছুঁয়ে গেলেন একদা সিপিএমের এই বাকপটু নেতা। বিলের পক্ষ হোক বা বিপক্ষ সবকিছুর শেষে দাঁড়িয়ে তাঁর কাতর আর্জি, ‘দেশ ভাগ হয়েছে। আমাদের আত্মা যেন দ্বিখণ্ডিত না হয়।’

বুধবার রাজ্যসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিপক্ষে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে খাঁটি বাংলায় ঋতব্রত বলেন, ‘সরকার বলছেন পাসপোর্ট ও বৈধ প্রমাণ পত্রের সময়সীমা বাড়ানোর কথা। কিন্তু যে মানুষ প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এলেন, এটা তো সম্ভব নয় প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা মানুষ সবকিছু সঙ্গে করে নিয়ে পালিয়ে আসবেন। ইন্দিরা গান্ধী মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেন। পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল সেই সময়। কিন্তু শুধু বাঙালি বলে ত্রাণ শিবিরে যথেষ্ট নির্যাতনের শিকার হতে হয় বাঙালিদের।’

এরপরই তিনি বলেন, ‘ভাষা রক্ষার লড়াইয়ে সেদিন ওপার বাংলার মানুষ রক্ত দিয়েছিল। সেখান থেকে সেই সময় যারা পালিয়ে আসেন তাঁরা মারা গেছেন। যারা ত্রাণ শিবিরে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের তৃতীয় পুরুষ আজও এ দেশে। তাঁরা কোথা থেকে পাবে প্রমাণ পত্র। আর তাই প্রত্যেকের উচিত ভারতবর্ষের ভিতটাকে তুলে ধরা।’ এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী/ হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃস্টানী/ পূরব পশ্চিম আসে তব সিংহাসন-পাশে/ প্রেমহার হয় গাঁথা।’ তাঁর কথায়, ‘রবীন্দ্রনাথের ভাবনাকে অসম্মান করা হচ্ছে। ভারতের মূল ভিতকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই কাটাতার কাল হয়ে এসেছে দেশে। যার কুফল দেশ এখনও ভোগ করছে।’