UCL: পেনাল্টি মিসের পরও হ্যাটট্রিক! শততম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন লেওয়ানডস্কি

10
এই গোলেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লেওয়ানডস্কি।

মহানগর ডেস্ক: পেনাল্টি যে কোনও ফুটবলারের জন্যই গোল করার সহজতম উপায়। কিন্তু সেই পেনাল্টি যদি মিস হয়? বাড়তি চাপ চলে আসে সেই ফুটবলারের মাথার ওপর। ঘিরে ধরে নেতিবাচকতা। দলকে জেতানোর জন্য বাড়তি এক চাপ অনুভব করেন সেই খেলোয়াড়। যে চাপ অনেকেই নিতে পারেন না।

কিন্তু রবার্ট লেওয়ানডস্কিকে অবশ্যই সেই তালিকায় ফেলা যাবে না। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছেন। তো কী হয়েছে? চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে দলকে হারিয়েছেন, এমনটা নিশ্চয়ই চাননি এই পোলিশ স্ট্রাইকার! আর সেই কারণেই হ্যাটট্রিক করে পুষিয়ে দিয়েছেন পেনাল্টি মিসের সব যন্ত্রণা। লেভার হ্যাটট্রিকের সঙ্গে দুই উইঙ্গার লেরয় সানে ও সার্জিও গ্ন্যাব্রির একটি করে গোল মিলিয়ে বেনফিকাকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বেনফিকার হয়ে দুটি গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক ফেলিপে মোরাতো ও উরুগুয়ান স্ট্রাইকার দারউইন নিউনেজ।

প্রথমে অবশ্য আক্রমণ শুরু করেছিল বেনফিকাই। প্রথম মিনিটেই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার পিৎজির দুটি শট দু’বার শরীর দিয়ে ঠেকান বায়ার্নের কানাডিয়ান লেফটব্যাক আলফান্সো ডেভিস। পরের মিনিটেই স্প্যানিশ লেফট উইংব্যাক অ্যালেক্স গ্রিমালদোর ফ্রি কিকে পা ঠেকিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন বেনফিকার দুই খেলোয়াড়। ছয় মিনিটেই নিজেদের আক্রমণে শাণ দেওয়া শুরু করে বায়ার্ন। গ্ন্যাব্রির এক শট আটকাতে গিয়ে বল আকাশে উঠে যায়, সেখান থেকে আরেকটু হলেই হেড করে গোল দিয়ে দিচ্ছিলেন লেওয়ানডস্কি। ১১ মিনিটে সুন্দর এক ভলি করে গোল করার সুযোগ পান জার্মান মিডফিল্ডার গোরেৎজা। কিন্তু সেই শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৫ মিনিটে বেনফিকা এগিয়ে গেলেও পরে দেখা যায় পিৎজি অফসাইডে ছিলেন।

১৯ মিনিটে ডেভিসের দূরপাল্লার এক শট কোনও রকমে আটকে দেন বেনফিকার গোলকিপার ওদিসিয়েস ভ্লাচোমিদোস। তবে গোলের জন্য আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বায়ার্নকে। ২৬ মিনিটে ফরাসি উইঙ্গার কিংসলে কোমানের ক্রস থেকে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন লেভা। ৩২ মিনিটে এবার সহায়তাকারী ভূমিকায় পোলিশ তারকা। ডান প্রান্ত থেকে লেভার পাস ধরে গোল করেন গ্ন্যাব্রি। ৩৮ মিনিটেই ম্যাচে ফিরে আসে বেনফিকা। গ্রিমালদোর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান কমান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফেলিপে মোরাতো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোরেৎজার কল্যাণে বায়ার্ন পেনাল্টি পেলেও সেটা মিস করেন লেওয়ানডস্কি। বেনফিকা যদি ঘুণাক্ষরেও বুঝত এই পেনাল্টি মিস লেভার মনে কী আগুনটাই না জ্বালিয়ে দেবে!

৪৯ মিনিটে ডেভিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ এক ভলিতে দলকে আরও এগিয়ে দেন লিরয় সানে। ৫২ মিনিটেই সানে নিজের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় সে শট। ৬১ আর ৮৪ মিনিটে বাকি ২ গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লেওয়ানডস্কি। মাঝে একটি গোল শোধ দেয় বেনফিকাও, দারউইন নিউনেজের কল্যাণে। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন লেভা। এই নিয়ে গ্রুপ পর্বে টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে বায়ার্ন। গ্রুপ ই-র দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একই দিনে দিনামো কিয়েভকে ১-০ গোলে হারানো বার্সেলোনা।