Roxanne Davur :৬৯ বয়সেও ৪৩১ জন পশুকে দিয়ে যাচ্ছেন  ‘স্নেহের স্পর্শ’

93
রুকসান লাভের পোষ্যের সঙ্গে

মহানগর ডেস্ক : তাঁর সাথে যদি ৩০ সেকেন্ড বিনা বাধায় কথা বলা যায় ,তাহলেও অনেক। কিন্তু অনবরত ভেসে আসছে বিভিন্ন পশু পাখির কোলাহল।  কিছুটা হেসে ফেলে তিনি বললেন,’ ওদের খাওয়ার সময় এখন তাই একটু জ্বালাতন করছে’।  তিনি  রুকসান দাভুর(Roxanne Davur), মহারাষ্ট্র থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার ভেতরে কারজাট
প্রদেশে  তৈরি করেছেন  এক স্বর্গ।  দুঃস্থ পশুপাখিদের  যখন কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না , তখনই  প্যারাডাইসের দরজা  তাদের জন্য খুলে দেন দাভুর ।

প্রায় ১.৫  বর্গ একর জায়গা জুড়ে তৈরি  কারজাট হাউস । আর সেখানেই থাকে ৪৩১ জন পোষ্য থুরি  বাসিন্দা।  কারণ পোষ্য শব্দটিতে  বেজায় আপত্তি কাভুরের(Roxanne Davur)। ২৫০টি  কুকুর,১৬২টি বিড়াল,৮টি ফনি,৭টি গাধা,২টি  ঘোড়া,১টি করে  শুকর ও গরু নিয়ে দিব্যি সুখে সংসার করছেন  এই ষাটোর্ধ্ব মহিলা।  কথা বলে জানা গেল, তাঁর সমস্ত অতিথিই  এসেছেন মুম্বাই এবং পুনে অঞ্চল থেকে যদিও তাদের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না।  কিন্তু দাভুর-ও  হাল ছাড়ার পাত্রী নন। তাদেরকে চিকিৎসা করে, আশ্রয় দিয়ে, পর্যাপ্ত খাবার দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন প্রত্যেককে।

ফ্লোরাল প্রিন্টের জামা সেই সাথে ছোট্ট চুল পাট করে আঁচড়ানো  নিজের চেনা ছন্দেই ধরা দিলেন তিনি । যদিও এ কাজে তাঁকে সাহায্য করেন আরও ৮  জন সমাজসেবী। তাও যতটা পারেন নিজেই কাজ এগিয়ে রাখতে চান দাভুর(Roxanne Davur)।

তাঁর প্রাত্যহিক কাজ হল, তাদের খেতে দেওয়া তাদের চান করানো। কারণ দাভুর ছাড়া কারোর কাছে যেতে চায় না।  তবে এতে দাভুরের বেশ ভালোই লাগে।

জানতে ইচ্ছে হল তাঁর ছোটবেলা কীভাবে কেটেছে?

তিনি বললেন,  তাঁর জন্ম পারশি পরিবারে। বাবা কাজ করতেন, মা ছিলেন হাউস ওয়াইফ। তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন তাঁর বাবা বিভিন্ন  দুঃস্থ কুকুরদের এনে তাদের চিকিৎসা করতেন,খাওয়াতেন এবং একটু সুস্থ হলেই ছেড়ে দিয়ে আসতেন। এই জিনিসটাই ছোট থেকে খুব নাড়া দিয়েছিল দাভুরকে।  নিজের সাকসেসফুল ক্যারিয়ারের পর তাই বেছে নিয়েছেন বাবার দেখানো রাস্তাই। ২০১১ সাল থেকে শুরু করলেন  তাঁর নতুন যাত্রাপথ। একটু একটু করে পরিবার বাড়তে বাড়তে আজ সেই পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪৩১ জন।  দাভুর বিশ্বাস করেন মানুষের মত যে কোনও প্রাণীরও সমান অধিকার আছে ভালো ভাবে বাঁচার।  সেই কারণেই নিজের জমানো টাকা দিয়েই গড়ে তুললেন  এই ফার্ম। তাদের খাবার,ওষুধ, প্রয়োজনীয় জিনিস,  বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, এমনকি বর্ষার হাত থেকে বাঁচার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গড়ে তুললেন একা হাতে।

তবে এত কিছুর  পরেও বাধা এখনো রয়েছে।  দুস্থ পশুদের  এই ‘প্যারাডাইস'(Paradise) পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি নেই। সেই কারণে  ইচ্ছা থাকলেও সব জায়গায় পৌঁছতে পারেন না তিনি। তবে তিনি আশা রাখছেন  ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।  ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যত বেশি এগিয়ে আসবে ততই বাড়বে তাঁর এই পরিবার।
যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কোন চালিকা শক্তি তাকে এই বয়সেও এত শক্তি জোগাচ্ছ !  নিজের চিরাচরিত হাসি হেসে বলেন , “আমি সব প্রাণীর চারপাশে থাকতে ভালোবাসি এবং উপভোগ করি, কারণ তারা প্রতিদিন সকালে আমার কাছে  আসে।  এবং আমার উপস্থিতি তারা যথেষ্ট পছন্দ করে। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা একটি স্বর্গে বাস করছি!’।

Roxanne Davur

read more,

“মোদি ছেড়ে দিদি, বুদ্ধবাবুকে ভালো না লাগলেই হল”, শ্রাবন্তীকে কটাক্ষ শ্রীলেখার