তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বিজেপি’র এমন ফল, লেখা হল RSS মুখপত্রে

5
kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। লোকসভার ফলের নিরিখে রাজ্য জয়ের স্বপ্ন দেখা বিজেপিকে ৭৭টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। বিজেপির এমন ফলের কারণ নিয়ে ইতিমধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে দলের অন্দরে। তৃণমূলের এই ফলের পেছনে কি শুধু সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজ আছে, না বিজেপির কোনও ভুলভ্রান্তি আছে? চর্চা চলছে এই বিষয়টি নিয়েও। ইতিমধ্যে আরএসএস নেতৃত্ব এই রাজ্যে বিজেপির এমন ফলের পেছনে তৃণমূল সরকারের সাফল্যের থেকে বেশি নিজেদের ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে আসছেন। দলের মুখপাত্র ‘অর্গানাইজার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় সেই কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। কী কী কারণে বিজেপি এমন ফল করল, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে আরএসএস মুখপত্রে।

​দলের এমন ফল নিয়ে বিজেপির রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে কোনও ময়নাতদন্ত করেননি। তবে আরএসএস যে কারণ সামনে এনেছে তাতে বলা হচ্ছে, বিজেপি’এ এই ফলেরর অন্যতম কারণ হল তৃণমূল থেকে বানের জলের মতো নেতা দলে নেওয়া। শুধু তাই নয়, তৃণমূল থেকে আসা সেই সব নেতাদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। যাতে বিজেপির আদি নেতা-কর্মীরা অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। বিজেপির হারের এটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছে আরএসএস। একইসঙ্গে ভোট চলাকালীন যেভাবে কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এই রাজ্যে, তাতে ফল বিজেপির অনুকূলে যায়নি।

​গত লোকসভা ভোটের নিরিখে রাজ্যে ১২১টি আসনে এগিয়ে ছিল বিজেপি। সেই ফল ধরে রেখে আর একটু সাফল্য ঘরে তুলতে পারলে বিজেপির রাজ্য জয় নিশ্চিত হতো। কিন্তু লোকসভা ভোটে নিজেদের যে শক্তি ক্ষয় হয়েছিল,  তা সদসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল মেরামত করে ফেলে। লোকসভার নিজেকে জেতা বহু সিট বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল।

​গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই এই রাজ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঢল নেমেছিল। মাঝখানে কিছুদিন থিতিয়ে থাকার পর বিধানসভা ভোটের দামামা বাজতেই আবার দলে দলে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যোগ দিতে থাকেন। তাদের মধ্যে অনেক হেভিওয়েট নেতা ছিলেন, যারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর যথেষ্ট গুরুত্ব পেতে থাকেন। সেই নেতাদের দাপটে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন আদি বিজেপি নেতারা। আর এই কারণেই আদি বিজেপি নেতারা অনেকেই ভোটের সময় খুব একটা সক্রিয় হননি বলে মনে করছে আরএসএস। আর যার ফল সরাসরি পড়েছে ইভিএম-এ।