পুরভোট প্রচারে মানা হচ্ছে না নিয়ম! আজ থেকে পথে নামবে পর্যবেক্ষক, জানাল কমিশন

45
election commision
পুরভোটের প্রচারে এবার পথে নামবে পর্যবেক্ষক।

মহানগর ডেস্ক: গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশ সহ রাজ্যে তাণ্ডব চালিয়ে চলেছে করোনা মহামারী। তারই মধ্যে কেটেছে দুর্গাপুজো, বিধানসভা নির্বাচন, উপনির্বাচন সবকিছুই। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে মহামারীর তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় নেমেছিল আমজনতা। পুরভোটের ক্ষেত্রেও তার তোয়াক্কা করতে চাইছে না রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। ভোটের বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন প্রথমেই স্থির করেছিল করোনা বিধি-নিষেধ মেনে করা হবে আসন্ন নির্বাচন। তাই অভিযোগ উঠতেই বিধি মেনে চলার ওপর কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিতে চলেছে এবার কমিশন।

রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ অর্থাত বুধবার কলকাতা পৌরসভা এলাকায় পর্যবেক্ষকরাও শুরু করবেন নজরদারি চালানো। দলের প্রার্থীরা যাতে বাইক মিছিল এবং গাড়ির কনভয় নিয়ে প্রচারে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং মাইক ব্যবহারের নির্দিষ্ট বিধি মেনে চলেন তার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। পুরভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার পরেই কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, ছোট মিটিং মিছিলের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। করোনার কারণে কোনও ভাবেই বড় মিটিং মিছিল করা যাবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের সর্বাধিক পাঁচজন থাকতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে চিত্র একেবারেই অন্যরকম। প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে নামছেন একাধিক মানুষ। ঠিক একই চিত্র দেখা গিয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে। একাধিক মানুষ একসঙ্গে ভোটের প্রচারে নামার ফলে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল করোনার গ্রাফ।

এই প্রসঙ্গে কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার এই সব দলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাইক মিছিল করা যাবে না। প্রচারে সর্বাধিক পাঁচটি গাড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। কলকাতার পুরভোটের ১৬ জন পর্যবেক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৪ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক। ভোটের ৭ দিন আগে থেকে পুরসভা অফিসে স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় টিকাকরণ কর্মসূচি হবে। তার কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, যাঁদের এখনও পর্যন্ত করোনা টিকা বকেয়া রয়েছে, তাঁরা যাতে করোনা টিকা নেওয়ার সুযোগ পান তাদের জন্যই। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের জানিয়েছেন, বিধি মেনে চলা হচ্ছে কিনা তার ওপরে কড়া নজরদারি চালানোর জন্য অতিরিক্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক পর্যবেক্ষকদের। অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের মত রাজ্য নির্বাচন কমিশনও ভোটারদের জন্য অনলাইনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করেছে। যার ফলে সমস্যার কিছুটা হলেও নিষ্পত্তি করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন কি কোনও অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য এক ঘন্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে রাত ন’টার পরে প্রচার করা যাবে না। মাইকে ব্যবহার করা যাবে না। দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রেও মানতে হবে কড়া বিধি-নিষেধ। সরকারি ভবনের দেওয়ালে প্রচারের কাজ করা যাবে না। ব্যক্তিগত বাড়ির দেওয়ালে লিখতে চাইলে বাড়ির মালিকের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়াও পুরোনির্বাচনে কোন বোর্ডের প্রার্থীর এজেন্ট হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেই ওয়ার্ডের ভোটার ও বাসিন্দা হতে হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৯ ডিসেম্বর কলকাতার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের রয়েছে পুরভোট। ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আর তারপর থেকেই প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই প্রকাশ করেছে নিজেদের প্রার্থী তালিকা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচারের কাজও। কিন্তু সেখানে করোনার বিধি নিষেধ ঠিক কতটা মানা হচ্ছে সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন!