সমুদ্র সঙ্গীতজ্ঞ তিমি! বিরহে গান গায়

97

 

মহানগর ডেস্ক:  গান আমরা সবাই ভালোবাসি, সুখে দুঃখে, আনন্দে বেদনায় কমবেশি সবাই সুযোগ পেলে গুনগুন করে গেয়ে উঠি। কিন্তু এমনটা কখনও শুনেছেন তিমি গান গায়? সমুদ্রের নীল জলরাশির নীচে অবাধে বিচরণ করে তিমি। বিশালাকার দেহ নিয়ে সমুদ্রের এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়, মাঝে মাঝে শ্বাস নেওয়ার জন্য জলের উপরে লাফিয়ে ওঠে আবার ডুবে যায়। কখনও কখনও নাক থেকে জলের  ফোয়ারা ওড়ায়। হুঙ্কার ছাড়ে। একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে হুঙ্কার করে। তিমি কিন্তু মাছ নয়,  বিশালাকৃতির সামুদ্রিক প্রাণী। এরা অনেক প্রজাতির হয়। কিলার, পাইলট, হাম্পব্যাক, বেলুগা, নীল তিমি ইত্যাদি। নীল তিমি সবচেয়ে বড়ো হয়। স্পার্ম তিমি মৃদু গুঞ্জন করে গান গায়। বিশেষজ্ঞরা হাম্পব্যাক তিমি বা কুব্জপৃষ্ঠ তিমির ৩০ মিনিট গান রেকর্ড করেছেন। 

১৯৮৯ সালে সাবমেরিন শনাক্ত করতে গিয়ে মার্কিন নৌ সেনাবাহিনীর নির্মিত সোসাস নামক হাইড্রোজেনের একটি বিন্যাস কিছু অদ্ভুত শব্দ শনাক্ত করে। নীল তিমির সঙ্গে এদের শব্দের পার্থক্য আছে। তিমি যোগাযোগের জন্য ১০-৪০ কিলোহার্জ শব্দ করে কিন্তু এটি ৫২ কিলোহার্জ শব্দ করে বলেই একে ‘৫২ কিলোহার্জ তিমি’ বলা হয়। ১৬৩ ডেসিবেল শব্দ তীব্রতার ২০,০০০ একুস্টিক ওয়াটের শব্দ করে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেখা যায়, শুধু প্রশান্ত মহাসাগরে নয় বিশ্বের গভীর সমুদ্রে এরা চরে বেড়ায়। 

সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাচ্চার ওজন প্রায় ২৭ টন, দৈর্ঘ্য২৭ ফুট এবং প্রাপ্তবয়স্ক তিমির ওজন ১৫০ টন, দৈর্ঘ্য ৯৮ ফুট। 

১৯৬০ সালে নীল তিমি তাদের গানের শব্দের কম্পাঙ্ক বাড়িয়েছে। উত্তর আটলান্টিকের তিমি দের সুরের কম্পাঙ্ক ক্রমবর্ধমান। এই তিমিদের সম্পর্কে ম্যাসাচুসেটসে উডস হোল ও শানোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী গবেষক  বিল ওয়াটার মৃতুর আগে তার সঠিক গবেষণা দিয়ে গেছেন। ২০১৩ সালে ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্যা এক্সপ্রেস দাবি করে ‘তিমির এই অস্বাভাবিক শব্দের মানে সে ভালোবাসা র খোঁজ বন্ধ করে দিয়েছে।’ 

বিরহে কিন্তু সবাই কাঁদে তাই না? মানুষ, পশু-পক্ষি সবাই কাঁদে। আমাদের মন খারাপ হলে গান করি, গান শুনি, নির্জন স্থানে গিয়ে একা বসে থাকি, ছবি আঁকি কিংবা কারো সঙ্গে গল্প করে মনের কষ্ট দূর করে থাকি। যদি এগুলো কিছু সম্ভব না হয় তাহলে কেঁদে নিয়ে শান্তি পাই। ৫২ কিলোহার্জ তিমি বড়ো একা, নিঃসঙ্গ, এই তিমি কখনও জোরে জোরে গান করে, প্রলাপ বকে, কাঁদে। কারণ এই তিমি বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ। 

অনেকের ধারণা এই তিমি একাই থাকতে চায়। তাই কোনও সঙ্গীর খোঁজ করেনি। ভারতের তার শব্দ হয়তো এই কারণে অন্যান্য তিমিদের কানে পৌঁছাতে দেয়নি। অনেকের ধারণা তিমি কানে শুনতে পায় না। প্রত্যেক গানের শেষে এই তিমিও আরও বেশি দুঃখ ও হতাশ হচ্ছে।