যুবতীর স্নান করার গোপন ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল! সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী কন্যা

160

নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: নিজের ঘরে বাশেরা আড়ায় গলায় ওড়না জড়ানো যুবতীর ঝুলন্ত দেহ। প্রতিবেশী এক ব্যক্তির চোখে পড়লে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। বাগদা থানার পাথুরিয়া গীর্জা সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। পুলিশ দেহটি ময়না তদন্তের পাঠিয়েছে৷

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবতির নাম মৌসুমী সরকার(২২)। তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করতে পারে সে৷যুবতীর মা সুভদ্রা সরকার প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বাগদা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে বুধবার গভীর রাতে অভিযুক্ত প্রেমিক সাউমিন খানকে গ্রেফতার করেছে৷

পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিকের বাবা-মা নিয়মিত অপমান করত যুবতীকে। দিন কয়েক আগে ওই যুবক এসে আমার মেয়েকে মারধর করেছিল। সে কারণেই অপমানে আত্মঘাতী হয়েছে সে। মৌসুমির দিদির বক্তব্য, বোনের স্নান করার গোপন ভিডিও তুলে তাকে ব্লাকমেইল করে জোর জবরদস্তি প্রেম করছিল ওই যুবক। বোন সরে যেতে চাইলে অত্যাচার করত, মারধর করতো। সে কারণেই বোন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃত যুবতীর পরিবার।

পুলিশও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের বাবা ও মৃত মৌসুমীর বাবা কর্মসূত্রে বিদেশে একই জায়গায় থাকেন৷ দুই পরিবারের মধ্যে দির্ঘ্য দিনের পরিচয়।মৌসুমির দুই দিদি বিবাহিত। বর্তমানে মৌসুমী মায়ের সঙ্গে পাথুরিয়ার বাড়িতে থাকতেন। কয়েক বছর আগে থেকে গোপালনগর থানার সুন্দরপুর এলাকার অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল৷ তাদের সম্পর্কের কথা দুই পরিবার জানতে পারে। অভিযোগ ওই যুবকের পরিবারের লোকেরা যুবতীর উপর বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অত্যাচার চালাচ্ছিল। বাজে ভাষায় কথা বলছিল। সে কারণে দিন কয়েক ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মৌসুমী।

সোমবার দুপুরে মা রান্না করছিলেন। সে সময় মৌসুমী ঘরে একাই ছিল।হঠাৎ বাড়ীতে কর্মরত রাজমিস্ত্রী তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখে চিৎকার চেচা-মিচি শুরু করে৷ প্রতিবেশীরা ছুটে এসে যুবতীর দেহটি উদ্ধার করে বনগাঁ মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে দিলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে৷

এরপরই যুবতীর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মা সুভদ্রা দেবী।তিনি বলেন” আমার মেয়ের সঙ্গে সুন্দরপুরের এক যুবক প্রেমের সম্পর্ক করে।যুবকের বাবা-মা নিয়মিত অপমান করত মেয়েকে। দিন কয়েক আগে ওই যুবক এসে আমার মেয়েকে মারধর করেছিল। সুইসাইড নোটে তার মৃত্যুর কারন হিসাবে যুবকের বাবা -মা কেই দায়ি করেছে মেয়ে। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।