প্রকাশ্যে শ্যুটআউট বর্ধমানে, গুলিবিদ্ধ টোটোচালক আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে

16
kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রকাশ্যে দিনের বেলায় বর্ধমান শহরের জনবহুল বিসি রোডে শ্যুটআউটের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ালে। শুক্রবার দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ বর্ধমান শহরের বিসি রোডের পূর্বতন রূপমহল সিনেমা হলের সামনে এক টোটোচালককে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ ওই টোটোচালককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির নাম হিরামন মণ্ডল। বাড়ি জামালপুর থানার জৌগ্রামের কলিপুকুর এলাকায় হলেও বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়ি বর্ধমানের সরাইটিকর বাসাপাড়া এলাকায় থাকতেন।

তিনি জানিয়েছেন, আগে তিনি বিসি রোডে একটি বেসরকারি গোল্ড লোন সংস্থায় সিকিউরিটির কাজ করতেন। এখন তিনি টোটো চালান। এদিন তিনি লোনের প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। তিনি যখন বেসরকারি ওই সংস্থার ভেতরে যাচ্ছিলেন, সেই সময় একজন তাঁকে জাপটে ধরে। এরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে একটি গুলি চালায়। গুলি লাগে তার জামার বুক পকেটে থাকা মোবাইলে। ফলে মোবাইলটি নষ্ট হয়ে গেলেও তাঁর বুকে গুলি লাগেনি। এরপরই তারা ছুটে বেরিয়ে আসে। তিনিও পেছন পেছন বেরিয়ে আসেন। এই সময় দুষ্কৃতীরা মোটরবাইকে চেপে পালাতে গেলে তিনি মোটরবাইকে থাকা একজনকে ধরে ফেলে দেন। এই সময় তার মাথায় বন্দুকের বাঁট দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। একইসঙ্গে তাঁকে লক্ষ্য করে ফের ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। একটি গুলি তাঁর পিঠে লাগে। এরপরই দুষ্কৃতীরা মোটরবাইকে চেপে পালিয়ে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়-সহ ডিএসপি সৌভিক পাত্র, বর্ধমান থানার আইসি পিণ্টু সাহা।

এরপর জানা যায়, ৬ জনের একটি দল  পরিকল্পনামাফিক গ্রাহক সেজে ভেতরে ঢোকে। প্রত্যেকের মাথায় ছিল হেলমেট। দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকেই কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীকে বেধড়ক মারধর করে বুকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে চুপ করে থাকতে বলে। এই সময়ই বাকি দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকে গিয়ে অফিসের কর্মী এবং গ্রাহকদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে। অফিসের ম্যানেজারের মুখে আগ্নেয়াস্ত্রের নল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মারধর করা হয় অফিসের কর্মীদের। অফিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকেরই বয়স ৩০-এর মধ্যে। তারা হিন্দি ভাষাতেই কথা বলছিল।

অফিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, এদিন দুষ্কৃতীরা প্রায় কয়েক কেজি সোনা নিয়ে চম্পট দেয়। সমগ্র ঘটনা ঘটে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে। এদিকে, এই সংস্থায় দুঃসাহসিক ডাকাতি সেরে যখন দুষ্কৃতীরা দোতলা থেকে নিচে নেমে আসতে থাকে, সেই সময় ওই সংস্থায় সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে যাচ্ছিলেন হিরামন মণ্ডল। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ‌্যায় জানিয়েছেন, গোটা জেলা জুড়েই সমস্ত থানাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দ্রুত অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করছেন।