রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া দিলীপের শোভন কয়েন ৭ তারিখ ঢুকছে তৃণমূলের পকেটে!

76
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: খাতায় কলমে বিজেপি নেতা হলেও, দলীয় শৃঙ্খলাকে ফুঁৎকারে উড়িয়ে ‘দলীয় শত্রু’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ভাইফোঁটার নিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা প্রিয় দিদির থেকে উপহার হিসাবে পেয়েছেন কেড়ে নেওয়া নিরাপত্তা। এহেন পরিস্থিতিতে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে। এবার হয়ত তৃণমূলে ঘর ওয়াপসি ঘটতে চলেছে শহরের প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। সঙ্গে জল্পনা আগামী ৭ তারিখ হয়ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ফের ঘাসফুলকে আপন করে নেবেন শোভনবাবু।

তৃণমূল থেকে একে একে ডানা ছাঁটার পর বৈশাখীকে বগলদাবা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর শাসকদলের তরফে তাঁর নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হলেও দল থেকে আজও বহিষ্কার করা হয়নি প্রিয় কাননকে। তবে বিজেপিতে মন টেকেনি তাঁর। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটুকু ছাড়া বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে আর দেখা মেলেনি শোভনের। বরং ভাইফোঁটার পুন্যলগ্নে ফের দিদি-ভাইয়ের মিলন দেখেছে গোটা বাংলা। এখন অপেক্ষা ৭ তারিখের। কারণ ৭ নভেম্বর দলের সমস্ত বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেহেতু তৃণমূল শোভনকে এখনও বহিষ্কার করেনি, সেহেতু ওই বৈঠকে শোভনেরও ডাক পড়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। আর ভাইফোটার দিন মমতা শোভনের সম্পর্ক যেভাবে ফের জোড়া লেগেছে তাতে। ওই বৈঠকে ডাক পড়লে সে ডাক শোভন এড়াতে পারবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর শোভন যদি ওই বৈঠকে উপস্থিত হন সেক্ষেত্রে ঘর ওয়াপসি নিয়ে আর কোনও প্রশ্নের জায়গা নেই।

এদিকে বিজেপিও যে শোভন আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছে তা শুক্রবার দিলীপ ঘোষের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। শুরুতে বিষয়টাকে সৌজন্যের রাজনীতি হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করেও হালে পাণি পায়নি বিজেপি। শেষে শোভন ইস্যুতে বলতেই হয়েছে। ‘উনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর, আমরা যথেষ্ট করেছি। এখানে সংবর্ধনা দিয়েছি ওনাকে। কিন্তু উনি সেই একদিনই এসেছিলেন, তারপর থেকে আর ওনার দেখা পাওয়া যায়নি। কোনও কর্মসূচিতে যোগ দেননি। আমি ফোন করেছি তাও আসেননি। আসলে রাস্তায় ১ টাকা কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। দান করে দিলাম। এতে দলের অবশ্য কোনও ক্ষতি হয়নি।’

যদিও, গোটা বিষয়টিকে এখনও সৌজন্যের রাজনিতিতেই আটকে রেখেছেন শোভন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ‘মঙ্গলবার কালীঘাটে ভাইফোঁটার দিন শোভনের স্বাস্থের খোঁজ নিয়েছিলেন দিদি। এরপর লেকে হাঁটতে যেতেও বলেন। তখন শোভন বলেন, নিরাপত্তার কারণে সব জায়গায় যেতে পারছেন না তিনি। তাই আগের মতো আর হাঁটাচলাও হচ্ছে না।’ শোভনের মুখে এই কথা শুনে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন দিদি। ওখানেই জানিয়ে দেন, নিরাপত্তার বিষয়টা দেখছেন তিনি। এরপরই তাঁর নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এখানে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই।’ যদিও এহেন পরিস্থিতিতে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ৭ নভেম্বর।