কাগজ কেনার পয়সা নেই, বাতিল দেশের সব পরীক্ষা

48

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনা সংক্রমণের জেরে বিধিনিষেধের গেরো কাটিয়ে সবে ছন্দে ফিরছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। স্কুল খোলায় আপাতত বন্ধ অনলাইন ক্লাস। পরীক্ষাও চালু হয়েছে অফলাইনে। ক্লাস পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার নোটিশও জারি করা হয়ে গিয়েছিল। তবে এসবই আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। কারণ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা চাকরি সর্বত্রই অফলাইনে পরীক্ষা নিতে হলে প্রয়োজন দিস্তা দিস্তা কাগজের। এই কাগজ কেনার পয়সাই নেই দেশের। অগত্যা বাধ্য হয়ে দেশের সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করে দিল সরকার।

এ ছবি ভারতের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কার। ঋণভারে জর্জরিত গোটা দেশ। ২০১৪ সালের পর থেকে ক্রমেই ঋণের বোঝা চেপে বসছে দেশটির ঘাড়ে। উনিশে ঋণের বোঝার পরিমাণ পৌঁছে যায় ৪২.৮ শতাংশে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। চলতি বছরই সব মিলিয়ে সে দেশের সরকারকে ঋণ বাবদ শোধ করতে হবে অন্তত ৭.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটিতে চলছে মুদ্রাস্ফীতি। চিনের কাছেও নিত্য দিন বাড়ছে ঋণের বোঝার বহর। দেশ প্রায় দেউলিয়া হওয়ার জোগাড়।

করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সবে একটু একটু করে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছিল শ্রীলঙ্কা। অনলাইন ব্যবস্থার বদলে অফলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে মাস কয়েক আগে। নোটিশ জারি হয়েছিল পরীক্ষার। কিন্তু দেখা গেল, সরকারের কাছে যা কাগজ আছে, তা দিয়ে সবার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। আবার এই মুহূর্তে কাগজ কেনার সামর্থও নেই সরকারের। কাগজ আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। এজন্য প্রয়োজন ডলারের। সেই ডলারের ভাঁড়ারেই টান। তাই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে দেশের সমস্ত পরীক্ষা। সোমবার থেকে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সরকারি নির্দেশিকার জেরে আপাতত তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষাগুলি ফের কবে হবে, তা এখনও জানা যায়নি। আচমকা পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ুয়ারা। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরাও।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা পায় শ্রীলঙ্কা। তার পর কেটে গিয়েছে সাত দশকেরও বেশি সময়। এই সময় সীমার মধ্যে এত ভয়ানক আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়নি দেশটি। প্রতিবেশী এই দেশটির দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। শ্রীলঙ্কাকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে চলেছে মোদি সরকার। আর্থিক এই সুবিধা নিতে ইতিমধ্যেই ভারত সফরে এসেছেন রাজাপক্ষে সরকারের অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপক্ষে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ওই অর্থের বিনিময়ে আপাতত তাদের খাদ্যভাণ্ডার ও ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাইছে দ্বীপরাষ্ট্রের সরকার। পরিস্থিতির মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সে দেশের সরকার। বিভিন্ন জায়গায় পালা করে বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। দেশের রেশন দোকানগুলির মাধ্যমে বিলি করা হচ্ছে চাল, চিনি, গুঁড়ো দুধ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।