‘ফারাক্কার জল থেকে পেট্রাপোল বন্ধ করে দেওয়া হবে’, বাংলাদেশ ইস্যুতে হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

30
Suvendu Adhikari
বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। - নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশের হিংসা বন্ধ না হলে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশপাশি তিনি বাংলাদেশের সরকারকে অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন। এদিন বাংলাদেশ ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। না হলে ফারাক্কার জল থেকে পেট্রাপোল বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, ডেপুটি হাইকমিশনের অফিসে হাইকমিশনারের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেছেন তিনি। সেখানে শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, তাঁরা সনাতনের ভোটে জিতেছেন, তাই তাঁরা দায়বন্ধ। তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের হিংসা যদি বন্ধ না হয়, তাহলে তাঁরা হিলি এবং পেট্রোপোলে গিয়ে কর্মসূচী নেবেন।’

যদিও সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্র-রাজ্য একত্রিত হয়ে কাজ করেছে বলেই আজ গোটা দেশের ১০০ কোটি মানুষ করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছে। কিন্তু সেখানেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের নাম কিনতে ব্যস্ত।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এই ঘটনার সূত্রপাত কুমিল্লার একটি পুজো প্যাণ্ডেলকে কেন্দ্র করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমিল্লার ওই পুজো কমিটির বিরুদ্ধে কোরানের অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপরই ওই পুজো মণ্ডপে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ। কুমিল্লার হিংসার ঘটনার পরই চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ চট্টগ্রাম ও বাংশখালি ও কক্সবাজারের পেকুয়া মন্দির এলাকাতে ভাঙচুর ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। তারপরেও থামেনি হিংসা। তাণ্ডবলীলা চলে বাংলাদেশের ইসকনের মন্দিরে। শনিবার নোয়াখালির চৌমুহনীতে ইসকন মন্দিরে প্রায় ৫০০ জন দুষ্কৃতী হামলা চালিয়েছে।

এছাড়াও জানা গিয়েছিল, মন্দির সংলগ্ন পুকুরের কাছ থেকে প্রান্ত চন্দ্র নমোদাস নামের এক যুবকের দেহ উদ্ধার হয়। এই হিংসার ঘটনায় জখম হয়েছেন ৩০ জন। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে এই হিংসার ঘটনার একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।