Home Featured Sitrang nomenclature: আছড়ে পড়লেই নাম হবে সিতরাং! কে দিল ঝড়ের এই নাম? কি বা এর অর্থ? জানুন

Sitrang nomenclature: আছড়ে পড়লেই নাম হবে সিতরাং! কে দিল ঝড়ের এই নাম? কি বা এর অর্থ? জানুন

by Silpika Chatterjee

মহানগর ডেস্ক: সাইক্লোন নাম শুনলে সমপ্রতি সব থেকে বিপর্যস্ত ঝড় ছিল ২০২০ এর আমফান। তারপর ইয়াস এসেছে কিন্তু ততটা প্রভাব শালী ছিল না। এছাড়াও ফণী, বুলবুল, তিতলি, একমনকি মারাত্মক আয়লা ঝড়ের স্মৃতি আজও দগদগে। আর এই নামের পিছনে রয়েছে কিছু উদ্দ্যেশ্য ও যুক্তি। আর গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবছর দুর্গোৎসব পালানোর মতো ঝড়োৎসব লেগে রয়েছে এইবারও আসছে একটি সাইক্লোন। যার উৎপত্তি স্থল আন্দামান সাগর। কিন্তু আবহাওয়াবিদরা অনেক সময় বলছেন এই ঝড় খুব বেশি শক্তিশালী নাও হতে পারে। ঘুরে যেতে পারে গতিপথ। এবার যদি এই ঝড় সাইক্লোন এর আকার পেয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে তাহলে এর নাম হবে ‘সিতরাং’ (Sitrang Nomenclature)।
নামটি দিয়েছে তাইল্যান্ডে। যার উচ্চারণ সি-তরাং৷ এটি তাইল্যান্ডের মানুষদের পদবী হলেও ভিয়েতনামিজ ভাষায় এর অর্থ ‘পাতা’। ২০২০ সালেই আইএমডি মোট ১৬৯টি ঝড়ের নামের একটি তালিকা করে রাখে। সেখানেই রয়েছে এই নামটি- সিতরাং৷

ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের নামকরণের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৯ শতকের শুরুতে ঝড়ের নামকরণের এত হিড়িক ছিল না। যে বছর ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে কখনও সেই সাল উল্লেখ করে কিংবা কখনও সাধু সন্তদের নামেই ঝড়ের নামকরণ করা হত। পরের দিকে যেখানে যেখানে ঘূর্ণিঝড় হত সেই জায়গার নামেই সাল জুড়ে দিয়ে ঝড়ের নাম হত। যেমন ‘১৮৬৪ ক্যালকাটা সাইক্লোন’। তবে বিশ শতক থেকে নতুন করে ঝড়ের নামকরণের পথ বেছে নিয়েছেন পশ্চিমী আবহাওয়াবিদরা। সেই মতো একই সমুদ্রের বুকে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে আলাদা চিহ্নিত করার জন্যই পশ্চিমী মহিলাদের নাম অনুসারে নাম রাখা শুরু হয়। কিন্তু ১৯৯৭ সালে হংকং প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি, পশ্চিমী নামে তাঁদের স্থানীয় ঝড়ের নাম তারা রাখবেন কেন? স্থানীয় ঝড়ের নাম স্থানীয়ই হবে।

২০০০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া দফতর ঝড়ের নামকরণের বিষয়ে একটা সমঝোতায় আসতে চায়। এশিয়ার কয়েকটি দেশের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠন হল একটি স্থানীয় আবহাওয়া সংস্থা। শুরুতে যার সদস্য হয় ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, মালদ্বীপ, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং তাইল্যান্ড। তখন ভারত নাম প্রস্তাব করে। কিন্তু দীর্ঘ ৪ বছর পর ভারতের সেই প্রস্তাবিত নাম গ্রাহ্য করে ২০০৪ সালের সাইক্লোনের নাম হয় ‘অনিল’ ২০১৮ সালের পর বিশ্ব আবহাওয়া দফতর থেকে ৮ টি দেশের সঙ্গে ইরাক, ইরান, সৌদি আরব-সহ মধ্য প্রাচ্যের ৫ টি দেশকে সদস্য করে। এখন সেই সংস্থার অধীনে ১৩টি দেশ মিলেই স্থানীয় ভূপ্রকৃতি সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। নামকরণের কাজও এখান থেকেই হয়।

নামকরণ পদ্ধতি:
সামুদ্রিক ঝড়ের জন্য আগাম নামকরণ করতে তালিকা তৈরী হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় আবহাওয়া সংস্থা অন্তর্ভুক্ত এই ১৩ টি দেশ ১৩টি করে নামের প্রস্তাব পাঠায়। সবমিলিয়ে নামের ভাণ্ডার হয় ১৬৯টি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব দেশের দেওয়া নামই মনোনীত এবং নির্বাচিত হয়।

নামকরণ এর কারণ: সাইক্লোনের নাম দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ দেখিয়েছে।
১. সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে যোগসাধন।
২. স্থানীয় নামে মানুষকে সহজে সতর্ক করা।
৩. একই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ তটে একাধিক ঝড় এলে তার আলাদা নাম থাকলে বোঝার সুবিধে হয়।
৪. প্রযুক্তিগত শব্দ বা বৈজ্ঞানিক নামের বদলে ঝড়ের বিশেষ নামকরণের ফলে আবহাওয়াবিদদেরও কাজে সুবিধে হয়।

নামকরণ শর্ত: তবে ঝড়ের নামকরণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আছে।
১. এক্ষেত্রে কোনও রকম লিঙ্গবৈষম্য, ধর্মীয় বিতর্ক এড়িয়ে যেতে হয়।
২. ব্যক্তিগত মূল্যবোধে আঘাত শানানো কোনও নাম গ্রাহ্য হবে না।
৩. কঠিন, নিষ্ঠুর বা অপশব্দ প্রয়োগ করা চলবে না।
৪. কোনও রাজনীতিবিদ কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা যাবে না।
৫. নাম হবে ছিমছাম, হালকা এবং মিষ্টি, সর্বাধিক আট অক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
৬. সেইসঙ্গে প্রস্তাবিত নাম অক্ষর ভেঙে সঠিক উচ্চারণ সহ পাঠাতে হয়।
আর এই শর্ত মেনেই ১৩টি দেশের আবহাওয়াবিদরা নাম প্রস্তাব করেন। তার মধ্যে ভারতের তরফে সম্প্রতি ১৩টা নামের মধ্যে ছিল – গতি, তেজ, মুরাসু, আগ, প্রবাহ প্রভৃতি। কিছু নাম দেশের জনগণের থেকেও চাওয়া হয়েছিল। সেগুলো তালিকাভুক্ত করে এএমডি দফতরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মনোনীত হলে চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়। প্রসঙ্গত, এর পরবর্তীতে আগত ঝড়ের নাম হবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দেওয়া মান্দোস, তার পরেরটা হবে ইয়েমেনের দেওয়া নাম মোচা।

You may also like