অভিযোগকারিনী ঘুমিয়ে পড়ায় জামিন পেয়ে গেল অভিযুক্ত ‘ধর্ষক’

30
judge

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কোনও ভারতীয় মহিলা যদি ধর্ষণের শিকার হন তাহলে শারীরিক অত্যাচারের পরপরই তিনি ঘুমিয়ে পড়তে পারেন না। এই পর্যবেক্ষণ ও তার সঙ্গে অন্যান্য ঘটনাক্রম বিবেচনা করে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে জামিন দিল কর্নাটক হাইকোর্ট। অভিযুক্ত রাকেশ বি ১ লক্ষ টাকা বন্ড ও অন্যান্য শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন বিচারপতি কৃষ্ণ এস রক্ষিতের এজলাসে।

অভিযোগকারিনী তার অভিযোগে জানিয়েছিলেন, যে অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করার পর তিনি খুব ক্লান্ত থাকায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এই আচরণটি একজন ভারতীয় মহিলার পক্ষে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। এছাড়াও অভিযোগকারিনী কেন রাত এগারোটার সময় অভিযুক্তের অফিসে গিয়েছিলেন তারও কোনও যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর তিনি দিতে পারেননি। শুধু তা্ই নয়, ওই সময় কেন তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন সেই বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। এই সব অস্পষ্টতার কারণেই অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি।

সরকারি আইনজীবী এই জামিনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অভিযুক্তের অপরাধ ”অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির” এবং সে অপরাধ প্রমাণ করার সমস্ত নথি সরকারের কাছে রয়েছে। এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া সমাজের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সরকারি আইনজীবীর সওয়ালের উত্তরে বিচারপতি জানান, যেখানে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যুক্তিগ্রাহ্য কোনও প্রাথমিক মামলা দায়ের করতে পারেনি সেখানে শুধুমাত্র ‘অপরাধের প্রকৃতি’ একজন নাগরিকের স্বাধীনতা খর্ব করার যথেষ্ট কারণ হতে পারে না।

অভিযোগকারিনী জানিয়েছেন, তাকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে এই অভিযোগেরও তেমন কোনও সারবত্তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি কৃষ্ণ এস রক্ষিত। কেন ঘটনাটি ঘটার পরই অভিযোগকারিনী আদালতের শরণাপন্ন হলেন না, কেন অভিযুক্তের সঙ্গে পরদিন সকাল অবধি থাকলেন সে বিষয়েরও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান বিচারপতি।