সোলেমানির শেষযাত্রা থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার জনগর্জন উঠল

26
solemine funeral bengali news

Highlights

  • সোলেমানি শেষকৃত্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার স্লোগান উঠল
  • সোলেমানিকে ইরানে সমাধিস্থ করা হবে
  • বাগদাদ থেকে তেহরানে সোলেমানির দেহ এসেছে

মহানগর ওয়েবডেস্ক:  ১৯৮০-’৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান ও ইরাকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী উপসাগরীয় যুদ্ধ চলেছিল৷ তারপর কালের নিয়মে দুই শিয়া- সুন্নী দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব৷ তাই ইরাকি হামলা থকে কোনওরকমে বেঁচে থাকা ইরানি সেনা নায়ক কাশেম সোলেমানির শেষকৃত্যে আজ ইরাকিরাও আমেরিকার বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার হুংকার দিল৷ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে শনিবার সকাল থেকেই শোক মিছিল শুরু হয়েছিল৷ জনতার হাতে ছলি ইরাকি ও মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা৷ শহরের রাস্তা জুড়ে মিছিল থেক ক্রুদ্ধ জন গর্জন,‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’৷ শোক মিছিলে ইরাকের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি ছাড়াও ইরানপন্থী শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগ দেন।

প্রথমেই নিহত ব্যক্তিদের কফিনগুলো নেওয়া হয় উত্তর বাগদাদের শিয়া মাজারে। সেখানকার লোকজনের পরনে ছিল কালো পোশাক। হাতে ছিল ইরাক ও হাশেদ আল-শাব্বি বাহিনীর পতাকা, হাতে ছিল সোলেমানি এবং ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি।। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানায়। এরপর কফিনের বহর নিয়ে যাওয়া হয় পবিত্র কারবালা শহরে। আর শেষ হয় নাজাফে। সেখানে ইরাকের নিহত পাঁচজনকে দাফন করা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় সোলেমানির মরদেহ ইরানে পাঠানো হবে। ইরানে তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মধ্য ইরানের কেরমান শহরে তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে৷

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মিলিশিয়া সদস্যদের মৃত্যুর জেরে ক্ষোভ জানাতে বিক্ষোভকারীরা গত মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরের দিকের দেয়াল ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দূতাবাসের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন। ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও অন্য কর্মীদের দূতাবাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন দাবি করে, জেনারেল সোলাইমানির অনুমোদনেই ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে।উচ্চ নিরাপত্তা স্থান গ্রিন জোনের কাছে আল-জাদরিয়া শহরের রাস্তায় আবু মাহদি আল-মুহানদিসের কফিন ঘিরে রেখেছেন ইরাকিরা। উচ্চ নিরাপত্তা স্থান গ্রিন জোনের কাছে আল-জাদরিয়া শহরের রাস্তায় আবু মাহদি আল-মুহানদিসের কফিন ঘিরে রেখেছেন ইরাকিরা।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনকে রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরাকে সোলাইমানিকে হত্যা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ভবিষ্যতে ইরানের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যেকোনো স্থানে তার লোকজন ও স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।সোলাইমানির মৃত্যুতে ফুঁসচে ইরান৷ খোমেইনির দেশ আমেরিকরা বিরুদ্ধে বদলা নিতে বদ্ধপরিকর৷তিনি মার্কিন সরকারের কালো তালিকায় ছিলেন। তিনি ইসরায়েল ও সৌদি আরবেরও মাথাব্যথার কারণ ছিলেন।