‘যাঁরা বলতেন মমতা দিদি বাংলায় দুর্গাপুজো করতেই দেয় না, তাঁদের মুখে তো চুনকালি পড়া উচিত’, নাম না করেই বিজেপিকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

39

মহানগর ডেস্ক: শিয়রে কলকাতার পুরভোট। আগামী ১৯ ডিসেম্বর পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই শেষ লগ্নের নির্বাচনী প্রচারে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্যের শাসক শিবির। চলতি সপ্তাহে বুধবার গোয়া থেকে ফিরেই পুরভোটের প্রচারে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারও কলকাতার বাঘাযতীনের যুব সংঘের মাঠে যাদবপুর এবং টালিগঞ্জের প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন তিনি।

সম্প্রতি ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় নাম জুড়েছে বাংলার দুর্গাপুজোর। হেরিটেজ তকমা পেয়েছে বাঙালির দুর্গোৎসব। বিশ্বের দরবারে দুর্গাপুজো স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলার সর্ববৃহৎ উৎসব। আর এই প্রসঙ্গ টেনেই বিজেপিকে তুলোধোনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,’ আজ আমাদের বাংলার দুর্গাপুজো বিশ্ব বন্দিত। আমরা তো এটাই চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ বলতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বাংলায় দুর্গাপুজো করতেই দেয় না। তাঁদের মুখে তো চুনকালি পড়া উচিত।’ তবে এই কটাক্ষ তিনি নাম না করলেও বিজেপিকেই করেছেন তা সকলের কাছেই দিনের আলোর মত স্পষ্ট। কারণ একুশের বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারংবার এই অভিযোগ তুলেছিলেন যে তৃণমূল নেত্রী পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো করতেই দেন না।

 

এদিনের সভা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন,’ সৌন্দর্যায়নের স্বার্থেই কলকাতায় নীল সাদা রং করিয়েছিলাম। তখন অনেকেই ব্যঙ্গ করেছিল। আর বর্তমানে কলকাতা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে দিল্লি, মুম্বাই সব জায়গায় নীল সাদা রং করানো হচ্ছে। গোটা দেশের অনুপ্রেরণা কলকাতা, বাংলা।’ তিনি আরও জানান যে যে সময়ে এই নীল সাদা রং করানো হয়েছিল সেই সময় বহু মানুষই ‘ আর্জেন্টিনা ‘ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। আর এখন মুম্বাই, দিল্লির মানুষজনের এই নীল সাদা রংয়ের প্রতি ঝোঁক এসেছে ফলে তাঁরাও এখন এই দুটি রং পছন্দ করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তিনি জলকর বিষয়ক মন্তব্য করতে গিয়ে জানান,’ কেন্দ্রীয় সরকার জলকর বসানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু আমি বলে দিয়েছিলাম যে এটা করা যাবে না। তাই আমি জলকর মকুবও করিয়ে দিয়েছি।’