T20 World Cup: হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

16
উইকেট দখলের পর ম্যাচের নায়ক শামসির উচ্ছ্বাস।

মহানগর ডেস্ক: দুরন্ত এক লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল শনি সন্ধ্যার শারজা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপর পরপর দু’টি ম্যাচ জিতে এখন স্বস্তির আবহ প্রোটিয়া শিবিরে। গত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর শনিবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশকে হারিয়ে এবার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল দ্বীপরাষ্ট্রটি। তারপর টানা দুই ম্যাচ হেরে এই মুহূর্তে বেশ কোণঠাসা লঙ্কানরা। গত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর এদিন ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সফল হয়নি তারা।

টসে জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠান টেম্বা বাভুমা। ওপেন করতে নেমে ফের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন পাথুম নিশাঙ্কা। ৫৮ বলে ৭২ রান করে একার কাঁধে দলকে টানেন তিনি। মূলত এই ডানহাতি ওপেনারের সৌজন্যেই ভদ্রস্থ স্কোর খারা করতে সক্ষম হয় দাসুন শানাকার দল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। মোট রানের অর্ধেকের বেশি আসে নিশাঙ্কার উইলো থেকেই। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে নিশাঙ্কা, আশালাঙ্কা (২১) এবং শানাকা (১১) ছাড়া আর কেউই দু’অঙ্কের ঘরে ছুঁয়ে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রিটোরিয়াস এবং শামসি তিনটি করে উইকেট দখল করেন। দু’টি উইকেট পান নর্তজে।

জবাবে প্রোটিয়াদের শুরুটাও বিশেষ ভালো হয়নি। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক (১২) এবং রেজা হেনরিকে (১১) দাগ কাটতে ব্যর্থ। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন না বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ডি কক। সেই নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি। এদিন ম্যাচ শুরুর আগে যথারীতি হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক।

তিন নম্বরে নেমে ভ্যান ডার দুসেনও (১৬) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্রিজে। তবে বাভুমার ব্যাট থেকে আসে অধিনায়কোচিত ইনিংস। ৪৬ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। যদিও এর জন্য ৪৬টি বল নষ্ট করেন বাভুমা। যার ফলে শেষ দিকে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরই মধ্যে এডেন মার্করাম (১৯) এবং প্রিটোরিয়াস (০) ফিরে যাওয়ার ম্যাচ ঝুঁকে যায় শ্রীলঙ্কার দিকেই। কিন্তু ডেভিড মিলার এবং কাগিসো রাবাদা চওড়া ব্যাট এক বল বাকি থাকতে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেয় প্রোটিয়াদের। কিলার মিলার ১৩ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৭ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন রাবাদা। শ্রীলঙ্কার হয়ে হাসারাঙ্গা তিনটি এবং চামিরা দু’টি উইকেট দখল করেন। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৭ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নেওয়ায় ম্যাচের সেরা হয়েছেন তাবারেজ শামসি।