উপসর্গহীন করোনা রোগীদের উপর বিশেষ নজর! নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

50

মহানগর ডেস্ক: প্রতিদিনই করোনা সংক্রমনের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তা নিয়ন্ত্রণে আনতে নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি। জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। এমনকি কোভিড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্দেশ্য একটাই লাগাম টানতে হবে করোনা সংক্রমণে।

করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রনে রাশ টানতে নানা নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র। বিশেষ করে উপসর্গহীন রোগীদের বিষয়ে নজর দিয়েছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এলে করোনা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়। করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের হালকা উপসর্গ বা কোনও উপসর্গ নেই তারা হোম আইসোলেশনে থাকতে পারবেন। কিন্তু ষাটের উপরে যারা রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে নিয়মকানুনে রয়েছে বদল। তারা ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই হোম আইসোলেশনে থাকবেন।

ষাটের উপরে যেসব ব্যক্তি রয়েছেন তাদের মধ্যে যারা উপসর্গহীন বা কম উপসর্গযুক্ত করোনায় আক্রান্ত তারা হোম আইসোলেশনে থাকবেন কিনা তা বলবে ডাক্তাররা। কিন্তু সেখানেও কিছু শর্ত রয়েছে। পরপর তিনদিন জ্বর না থাকলে তবেই ৭ দিন পর হোম আইসোলেশন শেষ হবে। এরপর পুনরায় করোনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে শুক্রবার নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, উপসর্গহীন রোগীদের সংস্পর্শে এলে কোনও ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা করার দরকার নেই। পরপর তিনদিন জ্বর না থাকলে ৭ দিন হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া যাবে। এরইসঙ্গে পরিবর্তন এসেছে কোভিড রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়ার নির্দেশিকায়।

মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে করোনা রোগীদের দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে- মৃদু ও হালকা। হাসপাতাল দিয়ে ছাড়ার আগে পুনরায় করোনা পরীক্ষার কোনও প্রয়োজন নেই ঠিকই কিন্তু হালকা উপসর্গযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে আরেকটু সচেতন থাকার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। হালকা উপসর্গযুক্ত রোগীদের যদি উপসর্গ সেরে যায় এবং পরপর তিনদিন অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া যদি রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৩ শতাংশ থাকে তবে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে। যদিওবা তা অবশ্যই যে ডাক্তার দেখছেন তার পরামর্শ নিয়ে। কিন্তু যদি উপসর্গ তখনও থাকে এবং অক্সিজেন সহায়তার দরকার পরে তবে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে না।

অক্সিজেন সিলিন্ডারের সহায়তা ছাড়া অক্সিজেন স্যাচুরেশন পরপর তিনদিন ৯৩ শতাংশের উপরে থাকলে তাকে ছাড়া যাবে। পাশাপাশি কোনও রোগীর অস্ত্রোপচারের আগে তিনি উপসর্গহীন হলে তার করোনা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই নির্দেশিকাকে ঘিরে আবার চিকিৎসক মহলে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মূলত করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে আনতে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার দিন নতুন নির্দেশিকায় বিভিন্নভাবে সচেতন করা হয়েছে হাসপাতালগুলিকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জারি হওয়া নির্দেশিকায় এসেছে বদল। করোনা রোগীদের সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতেই এই ব্যবস্থা।