রাজ্যপালের অভিযোগের সুরে মমতার বিরুদ্ধে রাজ্যপালকেই নালিশ বঙ্গ বিজেপি’র

28

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে এবারের রাজ্যপালের কাছে নালিশ জানাল বঙ্গ বিজেপি। কাটমানি আদায়ের সুযোগ নেই বলেই পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃবৃন্দের। বুধবার এই মর্মে বঙ্গ বিজেপির তরফ থেকে চিঠি দেওয়া হয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে। অন্যদিকে, কেবল আলুর দামের দুর্নীতিতেই প্রতি মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় বিজেপি’র তরফে। এইসব কিছুর নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

‘প্রধান মন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিজেপি চিঠিতে উল্লেখ করেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি অনুযায়ী মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা ছিল। কিন্তু এতে রাজ্য সরকার বাধা দিয়েছে। ফলে এ রাজ্যের ৭০ লক্ষ কৃষক ৮,৪০০ কোটি টাকা হারিয়েছে। এর জন্য কেবল রাজ্যের শাসক দলের নিম্ন মানের রাজনীতিই দায়ী। সরাসরি টাকা পাঠানোয় অর্থাৎ ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারে কাট মানি আদায়ের সুযোগ নেই বলে এক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য সরকার।’  রাজ্য সরকারের এই অভিসন্ধির বিরুদ্ধে রাজ্যপালকে কড়া পদক্ষেপ নিতে চিঠিতে আবেদন করেছে রাজ্য বিজেপি।

এছাড়াও, এদিন বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যপালকে দু’পাতার একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তাতে জানানো হয়েছে, বাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া হলেও চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছে না। বিজেপির অভিযোগ, ‘দালাল, মজুতদার ও এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর অশুভ আঁতাতের জন্য কিলোপিছু ২০-২৫ টাকা যুক্ত হচ্ছে।’ একটি হিসাব তুলে ধরে এই স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গে মাসে আলু লাগে প্রায় পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন, অর্থাৎ ৫০ কোটি কিলো। প্রতি কিলোয় ২০ টাকা কৃত্রিম দাম ধরলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হচ্ছে। এর দায় পড়ছে চাষি এবং সাধারণ মানুষের ওপর।’

এই সমস্ত কিছু দুর্নীতির নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব রয়েছে বলেই এদিন দাবি করা হয় স্মারকলিপিতে। এমনকি রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে কেন্দ্রের কৃষকবান্ধব বিলের বিরুদ্ধে কৃষকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যপালের করা অভিযোগগুলিই বিজেপি তাদের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছে ।