যোগীরাজ্যে অর্থযোগ! সৎ মেয়েকে নিলামে তুলে মা পেল ৮০ হাজার

5
girl bid for auctioned

Highlights

  • মহিলা সেলে রয়েছে ওই নাবালিকা
  • এক বছর আগেই মৃত্যু হয়েছিল মায়ের
  • সৎ মা বিক্রি করে দেয় ওই কিশোরীকে

মহানগর ওয়েবডেস্ক: এ যেন ঠিক বলিউড সিনেমা। ঋতিক রোশনের সিনেমা অগ্নিপথের রাউফ লালার চরিত্রটি নিশ্চয়ই মনে আছে আপনাদের। যেখানে নাবালিকাদের নিলামে চড়াত রউফ লালা। যে সর্বোচ্চ দাম দিত তার কাছেই বিক্রি করত সেই নাবালিকাকে। একেবারেই সেই চিত্রনাট্য যেন বাস্তবে এসে এক হয়ে গেল। এক ১৬ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য নিলামে ওঠানো হল। ভিড় জমাল তরুণ থেকে বৃদ্ধ সকলেই। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা।

বুলন্দশহরের আজমগড়ের একটি গ্রামে ওই নাবালিকার নিলাম চলছিল। জানা গেছে নিলামে হাজির ছিল বছর বিশেকের তরুণ থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ। ওই কিশোরীর নিলামি শুরু হল ৫০ হাজার টাকা দিয়ে। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে লাগল এলাকাবাসী।

আজমগড় পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ ধনেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, রাঁচির ওই কিশোরীর মা প্রায় একবছর আগে মারা যান। এরপর তাঁর সৎ মা কলাবতী, রাঁচির একটি গ্রামেই থাকতেন। সৎ মেয়ের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে হঠাৎই একদিন ৫০ হাজার টাকায় মেয়েকে বিক্রি করে দেয় কলাবতী। কিশোরী মেয়েকে নিয়ে নৌরঙ্গাবাদ গ্রামে পৌঁছায় কলাবতী এবং পুরো গ্রামে মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে দেয়।

ভিড় জমা হতেই কিশোরীকে বিক্রির দাম তুলতে থাকে ওই মহিলা। সেখানে ভিড় জমায় কুড়ি বছরের তরুণ থেকে আশি বছরের বৃদ্ধ। ভিড়ের মধ্যে থেকেই এক ব্যক্তি ৮০ হাজার টাকা দাম দিযে দেয় ওই কিশোরীর। এদিকে এই নিলামের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌংছায় পুলিশ। পালিয়ে যায় জমা হওয়া মানুষ। সেখান থেকেই কলাবতী আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ওই কিশোরীর সৎ মা নিজেই ওই গ্রামে পৌঁছে, মেয়েটির বিক্রির খবর চাউড় করতে থাকে। আশপাশের গ্রামগুলোতেও দাবানলের মত ছড়িয়ে পজড়ে এই খবর। এরপরই বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে কলাবতী। একেবারে ফিল্মি কায়দায়। লাইন করে ওই কিশোরীকে সবাই দেখতে থাকে। লাইন করে দাঁড়িয়ে ছিল প্রত্যেকেই যার যখন নম্বর আসছিল তখন সে দাম বলছিল। শুধু তাই নয়, ওই মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টাও করছিল তারা। প্রথমে ওই কিশোরী কিছুই বুঝতে পারেনি। তবে পরে তাঁর সম্বিত ফেরে। উপস্থিত লোকেরা তখন তাঁকে কূ-নজরে ছুয়ে দেখছে। ভয়ে, আতঙ্কে তখন পাযের তলার মাটি সরে গেছে ওই কিশোরীর। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতেই রেহাই মেলে ওই কিশোরীর।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত কলাবতী, এর আগেও অনেক নাবালিকাকে নিলামে বিক্রি করেছে। ৩০-৩৫ হাজার টাকায় নাবালিকাদের কিনত ওই মহিলা। প্রায় লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছে। জানা গেছে বাগপত, মুজফফরনগর, বিজনোর, মেরঠ, বুলন্দশহর সহ বহু এলাকায় এইভাবেই নাবালিকা পাচার, বিক্রি করার সঙ্গে যুক্ত কলাবতী। দুর্ভাগ্যের বিষয, “নয়া ভারত”-র নতুন ভাবনাচিন্তার মধ্যেই এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখতে হল দেশবাসীকে। এই লজ্জা সমগ্র দেশের। এই সমাজের।