নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড়, নিশিকান্ত মন্ডল খুনের ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করলেন তৃণমূল নেতা

4
Suvendu adikari
ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতা নিশিকান্ত মন্ডলকে খুন করিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, বললেন তৃণমূল নেতা আবু তাহের।

মহানগর ডেস্ক: ২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর মৃত্যু হয়েছিল সোনাচূড়া অঞ্চলের তৎকালীন অঞ্চল প্রধান নিশিকান্ত মন্ডলের। সেই ঘটনার প্রায় ১১ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এত পর আবারও রাজনীতির প্রকাশ্যে এল নন্দীগ্রামের সেই ঘটনা। নিশিকান্ত মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা আবু তাহের। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতা খুনের ঘটনায় এবার শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল তুললেন তৃণমূল নেতা। তিনি দাবি করেছেন, নিশিকান্ত মন্ডলকে খুন করিয়েছেন বর্তমান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।

শহীদ রবিন দাসের স্মরণসভায় এসে এমনটাই দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা আবু তাহের। আর এর পরেই শহীদ নিশিকান্তের পরিবারের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, প্রায় ১১ বছর ধরে কেন চুপছিল তৃণমূল? উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ২২ নভেম্বর নিশিকান্ত মন্ডল যখন নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন, তখনই তাঁর ওপরে হামলা চালানো হয়। সেই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, নিশিকান্তের ফোনে একটি ফোন এসেছিল। যার কারণে তিনি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে ফোনে কথা বলছিলেন। এবং সেই সময় পিছন থেকেই তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়। তাঁর দিকে লক্ষ্য গুলি ছোড়া হয়।

এই ঘটনা প্রায় এক যুগ পার হতে চলল। কিন্তু সত্যিই এখন হঠাৎ করে তৃণমূল এই অভিযোগ তুলল কেন এমনটাই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। শনিবার রবিন দাসের স্মরণসভায় তৃণমূল নেতা আবু তাহের শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী জমি আন্দোলনের সময় নিশিকান্ত মন্ডলের পেছনে লোক লাগিয়ে খুন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিশিকান্ত মন্ডল খুন হল, সেই সময় পুলিশ তদন্ত করল, মোবাইল ট্র্যাক করা হল। কিন্তু আসল অভিযুক্ত কে খুঁজে বার করা গেল না! আসলে তিনি তো নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এখানে উঠেছে প্রশ্ন। প্রায় ১১ বছর ধরে কেন চুপ ছিলেন তৃণমূল নেতা আবু তাহের? কেন এর আগেই তিনি এই বিষয়ে অভিযোগ তোলেন নি? কেন এখন এসে বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন তিনি? এই ধরনের নানান প্রশ্ন নিশিকান্ত মন্ডলের পরিবারের তরফ থেকে তোলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৎকালীন জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আবু তাহেরও সেই সময় জমি আন্দোলনে কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে তৃণমূল প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছিল শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আবু তাহেরের সঙ্গে তাঁর গোপনে যোগাযোগ ছিল। যদিও এই প্রসঙ্গে তৃণমূল পাল্টা জানিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের ধর্মীয় বিরোধ তৈরি করতে চেয়েছিল। যার কারণে তাঁর ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও একাধিক নেতা কর্মীরা বিরোধী দল নেতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, যদি ধরে নিই এই অভিযোগ সত্য, তাহলে এর জন্য প্রথম দায়ী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তখন এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না? নাকি তিনি মানতে নারাজ ছিলেন? এটা কি কখনও হতে পারে? আসলে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে আসার পরে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে। শুভেন্দুকে কোনও ভাবেই প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। তাই একের পর এক অভিযোগ তোলা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভারতীয় জনতা পার্টির ঝান্ডা ধরেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুভেন্দুকে নানাভাবে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে বর্তমান শাসকদল। এর আগেও তার দেহরক্ষী অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলাতে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে। এবার নতুন ফন্দি আঁটছে তৃণমূল।