দিল্লি যেতে রাজি ছিলেন না বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দাদাসাহেব ফালকে! ঠিক এমনই ছিলেন বাংলা ছবির সুপারস্টার সুচিত্রা সেন

30

মহানগর ডেস্ক : বাংলা ছবির ইতিহাস যাঁকে ছাড়া লেখা অসম্ভব, আজ সেই মহানায়িকার জন্মদিন। কথা হচ্ছে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে। যাঁর উপস্থিতি পর্দায় ঝড় তুলত। কিন্তু হঠাৎ করেই স্বেচ্ছায় অন্তরালে চলে যান তিনি। কিন্তু তাতেও খ্যাতি এতটুকুও কমেনি তাঁর। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে সজীব,চিরনতুন।

 

১৯৩১ সালে আজকের দিনে ব্রিটিশ ভারতের পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। যদিও জন্মসূত্রে নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। পরবর্তীকালে ১৯৫২ শেষ কোথায় ছবির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে পরিচিত হন সুচিত্রা সেন হিসেবে। পরবর্তী সময়ে অভিনয় জগতে দিয়েছেন একের পর এক হিট সিনেমা।সাড়ে চুয়াত্তর,মরনের পরে,অগ্নিপরীক্ষা,দেবদাস ,হারানো সুর ,পথে হলো দেরি ,দীপ জ্বেলে যাই এবং সপ্তপদী একাধিক ছবিতে অভিনয় করে মহানায়িকার খেতাব পেয়েছেন তিনি। করেছেন বোম্বেতেও। ‘আঁধি’,’বোম্বাই কা বাবু’,’দেবদাস’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেও

বলিউডে পরিচিতি পান তিনি।

 

পেয়েছেন বহু পুরস্কার। ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির জন্য মস্কোর তৃতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। প্রথম হিন্দি ছবি দেবদাসের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন সুচিত্রা সেন। পদ্মশ্রী ,বঙ্গবিভূষণের মত পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে আচমকাই দীর্ঘ ২৫ বছর চলচ্চিত্রজগতে কাটানোর পর অবসর নেন মহানায়িকা। লোকচক্ষুর আড়াল থেকে সরিয়ে নেন নিজেকে। ব্রতী হন রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায়।

 

২০০৫ দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয় মহানায়িকার নাম। তবে সেই পুরষ্কারও বিনা বাধায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। কারণটা যদিও একেবারেই অন্যরকম। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার নিতে যাওয়ার জন্য তাঁকে যেতে হবে দিল্লি। আর তাতে মোটেই রাজি ছিলেন না মহানায়িকা। সেই কারণে সম্মানীয় এই পুরস্কার।