Homeopathy : সর্দি কাশিতে ভুগছেন ? হোমিওপ্যাথি ওষুধেই মিলবে ম্যাজিক সমাধান

67

মহানগর ডেস্ক : নাক দিয়ে জল ঝরছে? সঙ্গে গলা ব্যথা? মাথা ধরে আছে? অনবরত কাশছেন? ব্যস তার মানেই আপনার ঠান্ডা লেগেছে বা কমন কোল্ডে (cough and cold) আক্রান্ত হয়েছেন। এই ভয়ঙ্কর রকম উপসর্গের (Symptoms of Cold & Cough) সমস্যা একটাই- সমস্ত কাজ পণ্ড হয়। কেউ কেউ আবার কাশির দমকে, সর্দির চোটে রাতে ঘুমাতেও পারেন না।

আরও পড়ুন : লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়’, বিচার বিভাগের বর্তমান অবস্থান নিয়ে চিন্তিত সিব্বল

সারাদিন শয্যাগত হয়েই থাকেন। কারও কারও ক্ষেত্রে অবস্থা এতটাই ভয়ানক হয় যে সারা সপ্তাহভর শুয়েই কাটিয়ে দিতে হয়। শরীর হয়ে যায় দুর্বল! মুখের স্বাদ চলে যায়। কোনও কিছুই করতে ভাল লাগে না। শরীর হয়ে যায় দুর্বল। এই ধরনের সমস্যায় অনেকেই টপাটপ বাজারচলতি ওষুধ খান। তাতে যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গ খানিক কমে বটে তবে শরীর পুরোপুরি শক্তিশালী হয় না।তবে এবার হোমিওপ্যাথি ওষুধেই হবে কেল্লাফতে।জানুন কোন কোন ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

অ্যাকোনাইট(Aconite) : কমন কোল্ডের প্রাথমিক অবস্থায় এই ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলে ভিজে শরীর খারাপ হলেও ওষুধটি কাজে আসে। এছাড়া প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীরে অস্বস্তির সঙ্গে উচ্চ মাত্রার জ্বর থাকলেও ওষুধটি দেওয়া যায় রোগীকে।

অ্যালিয়াম সেপা (Allium cepa): চোখে জ্বালা ভাব নেই তবে চোখ দিয়ে জল ঝরলে ও তার সঙ্গে হাঁচি পড়লে রোগীকে দেওয়া যায় অ্যালিয়াম সেপা।

আর্সেনিকাম অ্যালবাম (Arsenicum Album): একটানা হাঁচি পড়েই যাচ্ছে, নাক সুড়সুড় করছে এমন লক্ষণে আর্সেনিকাম অ্যালবাম ফলপ্রসূ। কপালে যন্ত্রণা, বুকে জ্বালা ভাব, শরীরে অস্বস্তি, এবং ভয় পাওয়ার মতো লক্ষণে ওষুধটি দেওয়া যায় রোগীকে।

ইউফ্রেশিয়া (Euphrasia): চোখে জ্বালাভাব এবং তার সঙ্গে জল পড়া, চোখ ফুলে যাওয়া, কাশি এবং দিনেরবেলায় কাশির উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণে রোগীকে দেওয়া যায় ইউফ্রেশিয়া।

ফেরাম ফসফোরিকাম (Ferrum phosphoricum): যে কোনও ধরনের প্রদাহকারক অসুখের প্রাথমিক অবস্থায় দেওয়া যায় এই হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি। চোখ লাল হয়ে যাওয়া সঙ্গে চোখে জ্বালাভাব থাকলে, রাতে শারীরিক অস্বস্তির কারণে ঘুম না এলে, দুর্বলতা এবং মাত্রাতিরিক্ত জলতেষ্টা পেলে খাওয়া যায় ফেরাম ফসফোরিকাম।

জেলসিমিয়াম (Gelsemium): ঠান্ডার সঙ্গে ফ্লু-এর মতো লক্ষণে এই ওষুধ দেওয়া যায়। অর্থাত্‍ রোগীর যদি গায়ে ব্যথা, শরীরে ভারী বোধ, ক্লান্তি, অস্বস্তি এবং ঠান্ডা লাগার অনুভূতি থাকে তাহলে খাওয়া যেতে পারে জেলসিমিয়াম।

ক্যালি বাইক্রোমিকিাম (Kali Bichromicum): ইতিমধ্যে ঠান্ডা লেগে বেশ কয়েকদিন কেটে গেলে ও নাক দিয়ে ঘন সর্দি ঝরলে এই ওষুধটি ব্যবহার করা যায়। নাকে ও শ্বাসনালীতে নাছোড়বান্দা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে, চোখ ফুলে গেলে ও নাক থেকে ঘন হয়ে সর্দি পড়লে প্রয়োগ করা যায় ওষুধটি।

মারকিউরিয়াস সলুবিলিস (Mercurius Solubilis): ঠান্ডায় কাঁপুনি, বার বার হাঁচি পড়লে, গলা ব্যথা থাকলে, মুখ থেকে মাত্রাতিরিক্ত লালা ঝরলে, মুখে কটু গন্ধ তৈরি হলে এবং সঙ্গে কানে ব্যথা থাকলে ব্যবহার করা যায় ওষুধটি।

ফসফরাস (Phosphorus): শুকনো কাশি যা সকালে ও সন্ধ্যায় বাড়ে, কথা বলা, খাবার খাওয়া, হাসার সময় কিংবা ঠান্ডা বাতাসে শ্বাস নিলেই কাশি হয়- এমন রোগীকে দেওয়া যায় ওষুধটি।

ডোজ (Dosage): নিজের থেকে কখনওই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। হোমিওপ্যাথি রোগের নয় রোগীর চিকিত্‍সা করে। ফলে একই অসুখে আলাদ আলাদা রোগীর লক্ষণ ভেদে বদলে যায় ওষুধ। পাল্টে যায় ওষুধের মাত্রা ও শক্তি। তাই সবসময় একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথের পারমর্শ মেনেই ওষুধ খাবেন। তাহলেই পাবেন দীর্ঘস্থায়ী উপকার।