‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’ লেফট করেছেন শঙ্কুদেব পন্ডা, তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন বিরোধী দলনেতা

10

মহানগর ডেস্ক: একের পর এক গ্রুপ লেফট এর বেড়ে চলেছে। বিজেপির অন্দরমহলের ভাইরাস যা সকলের মধ্যে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই হয়তো একের পর এক নেতা, মন্ত্রী, কর্মীরা ছাড়তে শুরু করেছে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সম্প্রতি শান্তনু ঠাকুর থেকে শুরু করে সায়ন্তন বসু, হিরণ চট্টোপাধ্যায় গ্রুপ ছেড়েছেন। এবার সেই তালিকায় নাম তুলেছে শঙ্কুদেব পন্ডা। তিনিও ছেড়েছেন বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ক্রমাগত বাড়তে শুরু করেছে দলের অন্তর্কলহ। আর তাতেই বেশ চিন্তিত বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ মহল।

শুভেন্দু অধিকারী এবং শঙ্কুদেব দু’জনই এক সময়ে তৃণমূলের নেতা ছিলেন। তারা পরে বিজেপির নেতা হয়েছেন। উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ছিল। তবে শঙ্কুদেব পন্ডা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফট করার বিষয়ে শোনার পরই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। যে বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখে খুশি হয়েছিল, এবার তাদের দলে নেমে এসেছে সেই দুঃসময়ে। নতুন রাজ্য ও জেলা কমিটিতে নাম না থাকায় বহু নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বেরিয়ে এসেছেন। রবিবার শঙ্কুদেব পন্ডা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করলেই, তিনি বলেন, কে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঢুকলো, কে বের হল সেটা দেখা আপনাদের কাজ নয়।

রবিবার পটাশপুরে আক্রান্ত নেতা তাপস মাঝিকে দেখতে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই শঙ্কুদেব পণ্ডা বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। বলেন, এখন যুব মোর্চার ক্ষেত্রে বয়স সীমা ধার্য করা হয়েছে। শঙ্কুর বয়স ৩৫ পেরিয়ে গিয়েছে। তো নতুন যেই কমিটি হচ্ছে সেখানে স্বভাবতই শঙ্কুদেব থাকবেন না। হয়তো শঙ্কুকে অন্য কোথাও কাজে লাগাবে দল। এটা নিয়ে মিডিয়াকে এত ভাবতে হবে না। এটা বিজেপির কাজ। বিজেপি ভালোভাবে জানে। কার্যত দলের অন্দরমহলের কোন্দল নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সংবাদমাধ্যমকে কটাক্ষ করে বসলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান শঙ্কুদেব পন্ডা। রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সহ-সভাপতি পদে ছিলেন তিনি। তার গ্রুপ থেকে লেফট করে যাওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলের অন্দরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। বলা যেতে পারে বর্তমানে বিজেপির অন্দরে একটি নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের মনের মত পদ না পাওয়া গেলেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া। শুরু হয়েছিল সৌমিত্র খাঁ এর হাত ধরে। এরপর সায়ন্তন বসু, শান্তনু ঠাকুর, তারপর হিরণ চট্টোপাধ্যায় সবশেষে শঙ্কুদেব পন্ডা।