পূর্ব মেদিনীপুরে ভাঙচুর চলে পুজো মণ্ডপে! এ রাজ্যের হিন্দুদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন শুভেন্দু’র

13

মহানগর ডেস্ক: বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর একের পর এক আঘাত আসছে। তাতেই ধিক্কার জানাচ্ছে গোটা বিশ্ব। বিশেষ করে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নেতা থেকে শুরু করে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা সবর হয়েছেন তার বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠছে মানবাধিকার নিয়ে! প্রশ্ন উঠছে একই দেশের নাগরিক সে কোনও সম্প্রদায়েরই হোক না কেন! তাঁর ধর্মীয় আচার-আচরণ পালনের স্বাধীনতা থাকবে না কেন? এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলছেন এদেশীয় হিন্দুদের অধিকার নিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দুর্গা মন্ডপের বাইরে অশান্তি, ভাঙচুর এমনকি সেখানে সেনা মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিরোধী দল-নেতা শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি বারবার হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে মিনি পাকিস্তান কিংবা মিনি বাংলাদেশে তৈরী করার চেষ্টা করছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বারংবার প্রশ্ন তুলেছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী একজন হিন্দু হয়েও মুসলিমদের বিভিন্ন আচার আচরণ পালন করেন। হিন্দুদের অধিকারের তুলনায় মুসলিমদের অধিকার এবং আচার – অনুষ্ঠানকে বেশি প্রাধান্য দেয় এ রাজ্যের শাসক দল। এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন হিন্দু মন্দির এবং হিন্দুদের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজোয় যেভাবে আঘাত আসছে মুসলিমদের পক্ষ থেকে, তাঁকেই কেন্দ্র করে আবারও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী টুইট করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি পুজো প্যান্ডেলের বাইরে মোতায়েন করা রয়েছে সেনা জওয়ান। এবং প্যান্ডেলের ভিতরে তছনছ করা রয়েছে জিনিসপত্র। তিনি লেখেন, “বাংলাদেশের ইঙ্গিত অনুসারে পশ্চিমবঙ্গেও?কোলাঘাটে দুর্গা মণ্ডপের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আবার পূর্ব মেদিনীপুরে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসন ভীত হয়ে রয়েছে।” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাঙালি হিন্দুদের একমাত্র অবশিষ্ট মাতৃভূমিতেও এই পরিস্থিতি! এখন কোথায় গেল, ছদ্ম/পরিস্থিতিগত ধর্মনিরপেক্ষ এবং ‘বুদ্ধি-জীব’রা? এ বিষয়ে তাদের মতামত কী?”

অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ কেন পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুরা সুরক্ষিত নয়। তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে ব্যর্থ। কেন এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরা কিছু বলছেন না? তাঁরা কেনই বা শুধু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতিতে মন্তব্য করছেন? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।